খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
আদিত্য বিড়লা সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (এবিএসএলআই) ভারতীয় বীমা বাজারে একটি নতুন অংশগ্রহণমূলক জীবন বীমা পরিকল্পনা বা ‘পার্টিসিপেটিং লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্ল্যান’ চালু করেছে, যার নাম ‘এবিএসএলআই আনমোল অক্ষয়’। এই আর্থিক পরিকল্পনাটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি একই সাথে গ্রাহকদের জীবন বীমার সুরক্ষা বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রোটেকশন প্রদান করে। এই দ্বিমুখী সুবিধার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারবেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন।
গ্রাহকদের বৈচিত্র্যময় জীবনের চাহিদা এবং ভিন্ন ভিন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বিবেচনায় রেখে আদিত্য বিড়লা সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স এই ‘আনমোল অক্ষয়’ পরিকল্পনার অধীনে তিনটি সুনির্দিষ্ট অপশন বা বিকল্প সুবিধা যুক্ত করেছে। গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি বিকল্প বেছে নিতে পারবেন:
‘মাই চাইল্ড’ (আমার সন্তান): এই বিকল্পটি মূলত সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার কথা চিন্তা করে সাজানো হয়েছে। সন্তানের পড়াশোনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্তর বা শিক্ষাগত মাইলফলকগুলোর (Education milestones) সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই অপশনের অধীনে নির্দিষ্ট সময় পরপর আয়ের অর্থ বা ইনকাম পেআউট প্রদান করা হয়। এর ফলে উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গঠনের ব্যয়নির্বাহ সহজ হয়।
‘মাই সেভিংস’ (আমার সঞ্চয়): এই বিকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় গঠনে সহায়তা করা। জীবনের বড় বড় আর্থিক লক্ষ্য, যেমন—নতুন বাড়ি কেনা, কন্যার বিয়ের খরচের সংস্থান করা কিংবা চাকরি জীবন পরবর্তী অবসরকালীন দিনগুলোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তহবিল বা রিটায়ারমেন্ট ফান্ড গঠন করার ক্ষেত্রে এই অপশনটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
‘হার বেনিফিটস’ (নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা): বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের আর্থিক ও শারীরিক সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই প্যাকেজটি তৈরি করা হয়েছে। এটি নারীদের সঞ্চয় সুবিধার পাশাপাশি বিভিন্ন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। এই সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে পেশাদার চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ (Medical consultations), স্বাস্থ্যবিষয়ক সঠিক দিকনির্দেশনা বা হেলথ কোচিং এবং জটিল রোগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বিতীয় মতামত (Second medical opinions) গ্রহণের সুবিধা।
‘এবিএসএলআই আনমোল অক্ষয়’ বীমা পরিকল্পনাটিতে মূল সুবিধার পাশাপাশি গ্রাহকদের আর্থিক ঝুঁকি আরও কমানোর জন্য কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐচ্ছিক সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই ফিচারের মাধ্যমে পলিসি গ্রহণকারীরা তাদের বীমা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জীবন বীমার সুরক্ষা বা কভারেজ চালু রাখতে পারবেন। গ্রাহকরা চাইলে তাদের বয়স ৭৫ বছর অথবা ৮৫ বছর হওয়া পর্যন্ত এই বর্ধিত জীবন বীমা সুরক্ষার সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারেন, যা পলিসির পরিপক্বতা বা ম্যাচিউরিটির পরেও কার্যকর থাকে।
এটি এই পরিকল্পনার অন্যতম একটি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। পলিসির মেয়াদ চলাকালীন সময়ে যদি বীমাকৃত ব্যক্তির (Life assured) আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এই ফিচারের অধীনে মনোনীত ব্যক্তিকে অবিলম্বে মৃত্যুর আর্থিক সুবিধা বা ইমিডিয়েট ডেথ বেনিফিট প্রদান করা হয়।
এর পাশাপাশি এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বীমাকৃত ব্যক্তির মৃত্যুর পর পলিসির ভবিষ্যৎ সমস্ত প্রিমিয়াম বা কিস্তি মওকুফ করে দেওয়া হয়। প্রিমিয়াম মওকুফ হওয়া সত্ত্বেও পলিসিটি বন্ধ হয়ে যায় না, বরং এর যাবতীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ম্যাচিউরিটি বা পরিপক্বতার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মেই চালু থাকে।
গ্রাহকদের বর্তমান মানসিকতা ও বীমা বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আদিত্য বিড়লা সান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কমলেশ রাও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বর্তমান সময়ে গ্রাহকরা এমন ধরনের আর্থিক সমাধানের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন যা তাদের জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যগুলোর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এবং সহায়ক।
সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় গড়ে তোলার মতো মৌলিক চাহিদাগুলোকে মাথায় রেখেই বীমা কোম্পানিগুলো এখন তাদের পণ্য বা সেবার নকশা প্রস্তুত করছে। ‘আনমোল অক্ষয়’ পরিকল্পনাটি মূলত গ্রাহকদের এই সুনির্দিষ্ট জীবনমুখী লক্ষ্যগুলো পূরণের উদ্দেশ্যেই বাজারে আনা হয়েছে।