ঢাকায় রাতের মেট্রোরেল চলাচল সময় বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় সাম্প্রতিকভাবে ২০ মিনিট বাড়ানোর পর যাত্রী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাতের মেট্রোরেলে ভিড় প্রায় দিনের ব্যস্ত সময়ের সমান পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে রাতের ট্রেন চলাচলের সময় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, নতুন সময়সূচি কার্যকর হওয়ার পর প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে আট হাজার অতিরিক্ত যাত্রী যুক্ত হয়েছেন। সময় বৃদ্ধির আগে দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ছিল চার লাখের কিছু বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ে একদিনে সর্বোচ্চ চার লাখ ঊনত্রিশ হাজারে পৌঁছায়।
রাতের শেষ ট্রেনে ভিড় বৃদ্ধির বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন কারওয়ান বাজার থেকে শেওড়াপাড়া যাতায়াতকারী সাংবাদিক রাজীব আহমেদ। তিনি জানান, একদিন সাড়ে দশটার ট্রেনে ভিড়ের কারণে উঠতে পারেননি এবং পরে শেষ ট্রেনে যাত্রা করেন। তিনি আরও বলেন, দিনের দুপুরের মতোই রাতের শেষ ট্রেনেও একই ধরনের ভিড় দেখা গেছে।
বর্তমানে রাতের সময়সূচি অনুযায়ী মতিঝিল থেকে উত্তরা রুটে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে দশটায় এবং উত্তরা থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত নয়টা পঞ্চাশ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত দুটি ট্রেন চালু করা হয়েছে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ প্রায় দুই হাজার তিনশ যাত্রী বহন করা সম্ভব। সেই হিসাবে দুটি অতিরিক্ত ট্রেনে প্রায় চার হাজার ছয়শ যাত্রী পরিবহন সম্ভব হলেও বাস্তবে যাত্রী বৃদ্ধি আরও বেশি হয়েছে, কারণ শেষ ট্রেনের আগের কয়েকটি ট্রেনেও ভিড় বেড়ে গেছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজার স্টেশনে সন্ধ্যা পাঁচটার পর থেকেই উত্তরা ও মিরপুরগামী যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। একাধিক যাত্রী জানান, রাতের ট্রেনে উঠতে গিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রথম ট্রেনে উঠতে না পেরে পরের ট্রেন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী আবু হুরায়রা জানান, ভিড়ের কারণে এক ট্রেনে উঠতে না পেরে দ্বিতীয় ট্রেনে উঠতে বাধ্য হন এবং সেখানেও দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, সকালের তুলনায় রাতে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় সময় বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে রাতের শেষ ট্রেন আরও দেরিতে চলতে পারে।
নিম্নের সারণিতে বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরিবর্তন তুলে ধরা হলো—
বিষয়
বর্তমান তথ্য
পরিকল্পিত পরিবর্তন
মন্তব্য
রাতের শেষ ট্রেন
মতিঝিল থেকে রাত সাড়ে ১০টা, উত্তরা থেকে রাত ৯টা ৫০ মিনিট
মতিঝিল থেকে রাত ১১টা, উত্তরা থেকে রাত ১০টা ২০ মিনিট
পরিকল্পনাধীন
সকাল প্রথম ট্রেন
উত্তরা থেকে সকাল সাড়ে ৬টা
পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই
অপরিবর্তিত
দৈনিক যাত্রী সংখ্যা
প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার
ভবিষ্যতে ৬ লাখ ৭৭ হাজার পর্যন্ত সম্ভাবনা
সম্প্রসারণের ওপর নির্ভরশীল
ট্রেন সেট ব্যবহার
পিক সময়ে ১২ সেট ট্রেন
১৪ সেট পর্যন্ত ব্যবহার পরিকল্পনা
পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি
ট্রিপ ব্যবধান
প্রায় ১০ মিনিট
আরও ঘন ট্রিপের সম্ভাবনা
সক্ষমতা অনুযায়ী
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ) নজরুল ইসলাম জানান, সময় বাড়ানোর ফলে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই কারণে আরও সময় বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাতের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়, তাই অতিরিক্ত সময় চালাতে হলে কারিগরি প্রস্তুতি জরুরি।
বর্তমানে মোট চব্বিশটি ট্রেন সেট মেট্রোরেল রুটে ব্যবহৃত হচ্ছে, প্রতিটি সেটে ছয়টি কোচ রয়েছে। পিক সময়ে বারোটি সেট নিয়মিতভাবে চালানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ট্রিপ বাড়ালে চৌদ্দটি সেট একযোগে চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম মেট্রোরেল চালু হয়। শুরুতে এটি উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত সীমিত থাকলেও পরে ধাপে ধাপে মতিঝিল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়।
আমাদের প্রতিনিধি –তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুন রাতের শেষ ট্রেনে ভ্রমণকারী এক নারী যাত্রী জানান, নারীদের জন্য নির্ধারিত কোচে ভিড় থাকলেও তিনি ট্রেনে উঠতে সক্ষম হন এবং নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা পান। তাঁর মতে, রাত ১০টার পরও শহরে যাত্রীর চাপ থাকায় মেট্রোরেল চলাচলের সময় আরও বাড়ানো হলে যাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।