বুধবার, ২৪ই জুন ২০২৬, ১০শে আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ই জুন ২০২৬, ১০শে আষাঢ় ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আইসিসির মাসসেরা পুরুষ ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন মুশফিকুর রহিম সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও গণমানুষের রাজনীতির নাম আওয়ামী লীগ কারাগারে ইনু দুটি খাতায় নিয়মিত সব কার্যক্রম লিখে রাখছেন প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন: অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার! আওয়ামী লীগের ওপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা ইউনূস সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, ভ্রমণের নামে দেশ ত্যাগের চেষ্টা অক্সফোর্ড আমন্ত্রণের নামে হাসনাত ও সাদিকের অভিনব প্রতারণা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত

দেশ

মুছে যায়নি দিনগুলি, ফুরোয়নি হেমন্ত: সুরের জাদুকরের জন্মজয়ন্তী

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মুছে যায়নি দিনগুলি, ফুরোয়নি হেমন্ত: সুরের জাদুকরের জন্মজয়ন্তী

‘তুমি এলে, অনেক দিনের পরে যেন বৃষ্টি এল’, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়’, ‘এই রাত তোমার আমার’, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ কিংবা ‘মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে’—বাংলা গানের শ্রোতা অথচ এই গানগুলোর সঙ্গে কখনো পরিচয় হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও গানগুলো হারিয়ে যায়নি; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করে। রেডিও, গ্রামোফোন, ক্যাসেট, সিডি পেরিয়ে এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও জায়গা করে নিয়েছে সেসব গান। আর এই দীর্ঘ যাত্রার সারথি একজন মানুষ—হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। প্রেমে পড়া তরুণের না-বলা অনুভূতি, বিচ্ছেদের দীর্ঘশ্বাস, মধ্যবিত্ত জীবনের নস্টালজিয়া কিংবা একাকী মানুষের নির্ভরতার জায়গা—সবখানেই বারবার ফিরে এসেছে তাঁর গান।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের নানা পরতে আজও টের পাওয়া যায় তাঁর উপস্থিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, ক্যানটিন থেকে শহর–বন্দরের অলিগলি, চট্টগ্রামের ডিসি হিল থেকে রাজশাহীর পদ্মাপাড়—সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের নানা পরতে ছড়িয়ে আছে তাঁর কণ্ঠের উপস্থিতি। কোনো নাট্যদলের মহড়াকক্ষ, পাড়ার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বর্ষার বিকেলে জানালার পাশে একা বসে থাকা একজন মানুষ—সমানভাবে আপন হয়ে ওঠে তাঁর গান। সেই শৈশব, কৈশোরে শরৎকালের দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে, স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, এমনকি ছোট্ট সেলুনের দোকানেও বহুবার শুনেছে মানুষ তাঁর গান। কখনো কখনো মনে হয়েছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাঙালির জীবনযাপনেরই অংশ বটে।

জীবনের প্রথমার্ধ ও বেনারসের সেই শিশুটি

১৯২০ সালের ১৬ জুন বেনারসে জন্ম হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের। পরে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন কলকাতায়। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে পড়াশোনার সময়ই তাঁর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল নাম—কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও সাহিত্যিক সন্তোষকুমার ঘোষের সঙ্গে। তখন কেউই হেমন্তকে ভবিষ্যতের গায়ক হিসেবে দেখতেন না। বন্ধুদের মধ্যে সুভাষ ছিলেন কবিতাপ্রবণ, সন্তোষের ঝোঁক ছিল সাহিত্যচর্চায়, আর হেমন্ত নিজেও স্বপ্ন দেখতেন লেখক হওয়ার। ছোটগল্প লিখতেন, এমনকি জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকা দেশ-এ তাঁর গল্পও প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু নিয়তি তাঁর জন্য অন্য এক ইতিহাস লিখে রেখেছিল।

সংগীতের প্রতি টান অবশ্য ছিল ছোটবেলা থেকেই। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তালিম ছাড়াই গ্রামোফোনে গান শুনে শুনে সুর আত্মস্থ করতেন। বন্ধু শ্যামসুন্দরের বাড়ির হারমোনিয়াম, গ্রামোফোন আর রেকর্ডই ছিল তাঁর প্রথম সংগীত বিদ্যালয়। নতুন কোনো গান শুনলেই সেটি গলায় তোলার চেষ্টা করতেন। তখনো তিনি জানতেন না, একদিন তাঁর নিজের কণ্ঠই কোটি মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

স্কুলজীবনেই ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা, যা পরবর্তীকালে তাঁর ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক হয়ে ওঠে। একদিন ক্লাসে বন্ধুদের সঙ্গে গান গাওয়ার অপরাধে তাঁকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খবর শুনে সহপাঠীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাবা শিক্ষকদের কাছে গিয়ে ছেলের জন্য অনুরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাটি হেমন্তের জীবনে শুধু একটি বিব্রতকর স্মৃতি নয়; বরং তাঁর চরিত্র গঠনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অপমান, rejection কিংবা অবহেলার মুখে তিনি কখনো তিক্ত হননি। বরং বাবার বিনয়, ধৈর্য ও সহনশীলতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরবর্তী জীবনে বহু বাধা, ব্যর্থতা ও অবমূল্যায়নের মুখোমুখি হলেও তিনি কখনো উচ্চকণ্ঠ হননি। নীরবে নিজের কাজ করে গেছেন।

সুভাষের হাত ধরে রেডিওতে ও রেকর্ড জগতে প্রবেশ

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সংগীতজীবনের শুরুর গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর একজন তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়। পরবর্তী সময়ে যিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন, সেই সুভাষই প্রথম বিশ্বাস করেছিলেন হেমন্তের অসাধারণ কণ্ঠের শক্তিতে। স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ না পেয়ে যখন হেমন্ত কিছুটা হতাশ, তখন সুভাষই তাঁকে বলেছিলেন, ‘স্কুলে না গাইলে কী হয়েছে, চল রেডিওতে অডিশন দিই।’

সেই উৎসাহেই ১৯৩৫ সালে তৎকালীন ব্রডকাস্টিং করপোরেশন, পরে যার নাম হয় অল ইন্ডিয়া রেডিও, সেখানে অডিশন দেন হেমন্ত। অডিশনে তিনি গেয়েছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী সন্তোষ সেনগুপ্তের গান ‘আজও পড়ে গো মনে’। বিচারকদের নজর কাড়তে সময় লাগেনি। নির্বাচিত হন তরুণ হেমন্ত। কিন্তু সামনে ছিল আরেক বাধা—পরিবার। বিশেষ করে বাবা চাইতেন ছেলে মনোযোগ দিক পড়াশোনায়, গানকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর আপত্তি ছিল।

অবশেষে মা, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চেষ্টায় বাবার সম্মতি মেলে। রেডিওতে গাওয়ার জন্য নতুন গান দরকার। সেই সময় সুভাষ মুখোপাধ্যায় নিজেই লিখে দেন ‘আমার গানেতে এলে নবরূপে চিরন্তনী’। আরেকটি গান ছিল একটি ভাটিয়ালি। রেডিওতে গান প্রচারের পর সংগীতাঙ্গনে প্রথমবারের মতো পরিচিত হতে শুরু করেন হেমন্ত।

তবে সাফল্যের পথ তখনো সহজ ছিল না। রেডিওতে গান প্রচারিত হলেও রেকর্ড কোম্পানিগুলোর দরজা তাঁর জন্য সহজে খোলেনি। বন্ধু সুভাষকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক কোম্পানির দ্বারে ঘুরেছেন তিনি। সেনোলা, পাইওনিয়ার, মেগাফোন, এইচএমভি—কেউই তেমন আগ্রহ দেখায়নি। প্রত্যাখ্যানের সেই দিনগুলোতে তিনি সাহিত্যচর্চাও চালিয়ে যান, লিখতে থাকেন গল্প। এর মধ্যেই জীবনে আসে বড় মোড়। বাবার বন্ধু শান্তি বসুর উদ্যোগে পরিচয় হয় খ্যাতিমান সুরকার শৈলেশ দত্তগুপ্তের সঙ্গে। তাঁর সামনে গান গাওয়ার সুযোগ পান হেমন্ত। কণ্ঠ শুনেই মুগ্ধ হন শৈলেশ। কয়েক দিনের মধ্যেই দুটি গান রেকর্ড করার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।

১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড। নরেশ্বর ভট্টাচার্যের কথায় ও শৈলেশ দত্তগুপ্তের সুরে গান দুটি ছিল ‘জানিতে যদি গো তুমি’ এবং ‘বলো গো বলো মোরে’। তখনো তিনি ছিলেন সংগ্রামী এক তরুণ শিল্পী, যার সামনে অনিশ্চয়তা ছিল বেশি, নিশ্চয়তা কম। কিন্তু সেই রেকর্ডই হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ সংগীতযাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর।

‘ছোট পঙ্কজ’ থেকে সলিল চৌধুরীর সাথে যুগলবন্দী

সংগীতজীবনের শুরুর দিকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে অনেকেই ডাকতেন ‘ছোট পঙ্কজ’ নামে। কারণ, তাঁর গায়কিতে স্পষ্ট ছিল কিংবদন্তি শিল্পী পঙ্কজ মল্লিকের প্রভাব। সে সময় পঙ্কজ মল্লিক ছিলেন বাংলা গানের আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন। তরুণ হেমন্তও তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হতেন, অনুসরণ করতেন গাওয়ার ভঙ্গি। কিন্তু দীর্ঘদিন অনুকরণে আটকে থাকেননি। ধীরে ধীরে নিজের স্বর, উচ্চারণ, আবেগ প্রকাশের ধরন এবং গায়কির ভঙ্গি গড়ে তুললেন তিনি।

চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি সময়েই তিনি বুঝিয়ে দেন, তিনি কারও অনুসারী হয়ে থাকার জন্য আসেননি। ১৯৪৪ সালে নিজের সুরে প্রকাশ করেন ‘কথা কয়ো নাকো, শুধু শোনো’ এবং ‘আমার বিরহ আকাশে প্রিয়া’—দুটি গান। বিশেষ করে ‘কথা কয়ো নাকো, শুধু শোনো’ বাংলা আধুনিক গানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। উচ্চারণের ভঙ্গি, কথাকে সুরের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়ার কৌশল এবং আবেগ প্রকাশের সংযত ধরন বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে একেবারেই নতুন ছিল।

ঠিক এই সময়েই তাঁর জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের (আইপিটিএ) মাধ্যমে পরিচয় ঘটে তরুণ গীতিকার ও সুরকার সলিল চৌধুরীর সঙ্গে। বাংলা গানের ইতিহাসে এই দুই মানুষের মিলন ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। চল্লিশের দশকের শেষ দিকে সলিল চৌধুরীর লেখা ও সুরে প্রকাশিত হয় ‘কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা’। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত প্রায় ছয় মিনিটের এই গান বাংলা গানের প্রচলিত রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। প্রেম কিংবা প্রকৃতির বদলে এখানে উঠে আসে গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম, ক্ষুধা, বেদনা ও ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা। এরপর একের পর এক সৃষ্টি—‘রানার’, ‘অবাক পৃথিবী’, ‘পাল্কীর গান’, ‘ঘুম ভাঙার গান’। সলিল চৌধুরীর সুরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ হয়ে উঠল সময়ের দলিল।

উত্তমকুমারের কণ্ঠ হয়ে ওঠা ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অভিনেতা ও প্লেব্যাক শিল্পীর যত সফল জুটি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী জুটিগুলোর একটি নিঃসন্দেহে উত্তমকুমার ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ১৯৫৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শাপমোচন’ ছবিকে অনেকেই এই জুটির স্বর্ণযাত্রার সূচনা বলে মনে করেন। ছবিতে উত্তমকুমারের পর্দার উপস্থিতির সঙ্গে হেমন্তের মায়াময়, গভীর ও আবেগঘন কণ্ঠ এমনভাবে মিশে গিয়েছিল যে দর্শকদের কাছে দুজনকে আলাদা করে ভাবা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘মায়ামৃগ’, ‘দুই ভাই’, ‘ইন্দ্রাণী’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু’সহ অসংখ্য ছবিতে উত্তমের ঠোঁটে শোনা গেছে হেমন্তের কণ্ঠ। পর্দায় উত্তমকুমারের ব্যক্তিত্ব ছিল মার্জিত, রোমান্টিক ও আকর্ষণীয়। আর হেমন্তের কণ্ঠে ছিল একধরনের উষ্ণতা, কোমলতা ও বিষণ্ন সৌন্দর্য।

১৯৫১ সালে পরিচালক হেমেন গুপ্তের আহ্বানে মুম্বাই যান হেমন্ত। সুর করেন ‘आनंद मठ’ (আনন্দমঠ) ছবির সংগীত। এরপর হিন্দি চলচ্চিত্রেও তাঁর উত্থান শুরু হয়। ‘ইয়ে রাত ইয়ে চাঁদনী ফির কাহাঁ’, ‘হ্যায় আপনা দিল তো আওয়ারা’, ‘না তুম হামে জানো’, ‘চুপ হ্যায় ধরতি’—এসব গান তাঁকে সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তা এনে দেয়। সুরকার হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান সফল। ‘नागिन’ (নাগিন) ছবির সংগীতের জন্য অর্জন করেন ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জীবনের গৌরবময় অর্জনগুলোর একটি আসে ১৯৭২ সালে। হলিউডের ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র ‘Siddhartha’ (সিদ্ধার্থ)-এ ব্যবহৃত হয় তাঁর গাওয়া বাংলা গান ‘ও নদী রে’ ও ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’। শুধু তা–ই নয়, কনরাড রুকস পরিচালিত ছবিটির আংশিক সংগীত পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে শশী কাপুর, সিমি গ্রেওয়াল অভিনীত আন্তর্জাতিক মূলধারার একটি ইংরেজি ছবিতে বাংলা গান পৌঁছে যায় বিশ্বদর্শকের কাছে।

রবীন্দ্রসংগীত ও জীবনাবসান

রবীন্দ্রসংগীতের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সমৃদ্ধ করেছেন বহু কিংবদন্তি শিল্পী। তবে বৃহত্তর মধ্যবিত্ত শ্রোতাদের কাছে রবীন্দ্রনাথকে সহজ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি রবীন্দ্রসংগীতের প্রচলিত কাঠামো ভাঙেননি; बल्कि নিজের সহজ, সংযত ও আবেগঘন গায়কির মাধ্যমে গানগুলোকে সাধারণ মানুষের জীবনের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কণ্ঠে ‘আমার আর হবে না দেরি’, ‘কেন পান্থ এ চঞ্চলতা’, ‘আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ’, ‘পথের শেষ কোথায়’ কিংবা ‘পুরানো সেই দিনের কথা’ পৌঁছে গেছে পাড়ার জলসা থেকে মধ্যবিত্তের ঘরে।

১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সুরের এই মহান সাধক পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মৃত্যুর পর কেটে গেছে বহু বছর, কিন্তু তাঁর গানের আবেদন ও সমকালীনতা আজও অম্লান।

ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রধান তথ্যচিত্র

উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিচে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জীবনের প্রধান মাইলফলক ও অর্জনের একটি তালিকা উপস্থাপন করা হলো:

সাল/সময়কাল ঘটনা / অর্জন / পদবি বিবরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য
১৯২০ (১৬ জুন) জন্ম বেনারসে জন্মগ্রহণ করেন, পরবর্তীতে কলকাতায় চলে আসেন।
১৯৩৫ অল ইন্ডিয়া রেডিওতে অডিশন বন্ধু সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় প্রথম রেডিও অডিশন ও নিবাচন।
১৯৩৭ প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড শৈলেশ দত্তগুপ্তের সুরে ‘জানিতে যদি গো তুমি’ ও ‘বলো গো বলো মোরে’ প্রকাশ।
১৯৪৪ স্বতন্ত্র সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ ‘কথা কয়ো নাকো, শুধু শোনো’ এবং ‘আমার বিরহ আকাশে প্রিয়া’ গান প্রকাশ।
১৯৫১ মুম্বাই আগমন হিন্দি চলচ্চিত্র ‘আনন্দমঠ’-এর সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে সর্বভারতীয় যাত্রা শুরু।
১৯৫৫ উত্তম-হেমন্ত স্বর্ণযুগ শুরু ‘শাপমোচন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উত্তমকুমারের নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে স্থায়ী আসন।
১৯৫৬ (আনুমানিক) ফিল্মফেয়ার পুরস্কার হিন্দি চলচ্চিত্র ‘নাগিন’-এর অসামান্য সংগীত পরিচালনার জন্য লাভ করেন।
১৯৭২ হলিউড চলচ্চিত্রে সংযুক্তি ইংরেজি ছবি ‘সিদ্ধার্থ’-এ ‘ও নদী রে’ ও ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’ গানের ব্যবহার ও সংগীত পরিচালনা।
১৯৮৯ (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রয়াণ কলকাতায় এই মহান সংগীতশিল্পীর জীবনাবসান ঘটে।