দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও চারটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৭৪ জন শিশু ও কিশোর হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৭৭ জনের এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ জন শিশু। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারাবাহিক মৃত্যু শিশুদের জন্য গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে দুটি সিলেট বিভাগে, একটি ঢাকা বিভাগে এবং একটি চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ভৌগোলিক বিস্তার থেকে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত রোগী হিসেবে ৯৭২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে—৩৬১ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসা গ্রহণের পর গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৯৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত ৯৬ দিনে পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। এই সময়ে মোট ৯০ হাজার ৯৮২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, যার মধ্যে ৭৫ হাজার ১৫৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯ জনে পৌঁছেছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭১ হাজার ৩৯৬ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিস্থিতি (সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টা)
বিভাগ
মৃত্যুর সংখ্যা
ভর্তি রোগী
সিলেট
২
উল্লেখযোগ্য তথ্য অন্তর্ভুক্ত
ঢাকা
১
৩৬১
চট্টগ্রাম
১
২১৬
বরিশাল
০
১৩২
অন্যান্য
০
বাকি রোগী
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তার রোধে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চাপ বাড়ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকা প্রদান এবং দ্রুত শনাক্তকরণই এই রোগের বিস্তার কমানোর প্রধান উপায়। বর্তমানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গুরুতরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।