খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল দল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮২ ধাপ পিছিয়ে থাকা তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ব্রাজিলের কৌশল, মধ্যমাঠের দুর্বলতা এবং আক্রমণভাগে একজন যোগ্য স্ট্রাইকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা নানা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ফিলাডেলফিয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে সেই সমস্ত সমালোচনার যোগ্য জবাব দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ব্রাজিলের এই দাপুটে জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন দলের ৯ নম্বর জার্সিধারী স্ট্রাইকার মাতেউস কুনিয়া। ম্যাচের প্রথমার্ধেই, বিশেষ করে প্রথম ৩৬ মিনিটের মধ্যে, তিনি চমৎকার দক্ষতায় দুটি গোল করে দলকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন। কুনিয়ার এই জোড়া গোল ব্রাজিলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা প্রমাণ করার পাশাপাশি দলের উপর থেকে মানসিক চাপ সম্পূর্ণ দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমার্ধের এই বিধ্বংসী রূপের কারণেই প্রতিপক্ষ দলগুলো বিশ্বকাপের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য একটি শক্ত সতর্কবার্তা পেয়ে গেছে।
খেলার চূড়ান্ত ফলাফল ব্রাজিলের পক্ষে ৩-০ ব্যবধান দেখালেও, মাঠে ব্রাজিলের আধিপত্য বিবেচনা করলে গোলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। পুরো ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে। এছাড়া অফসাইডের কঠোর নিয়মের কারণে ব্রাজিলের দুটি গোল বাতিল হয়ে যায়। ম্যাচের ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৭৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা তরুণ ফুটবলার এনদ্রিকের আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে নাকচ করেন রেফারি। প্রথমার্ধে ব্রাজিল যেভাবে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেই ধারা বজায় রাখতে পারেনি। বিরতির পর ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গতি ও ধার কিছুটা কমে যায়, যার ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল দেখেনি দর্শক।
ম্যাচের সামগ্রিক চিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিবরণের বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| অংশগ্রহণকারী দল | ব্রাজিল বনাম হাইতি |
| ম্যাচের ফলাফল | ব্রাজিল ৩ – ০ হাইতি |
| খেলার মাঠের নাম | ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম |
| দলের প্রধান কোচ | কার্লো আনচেলত্তি |
| ম্যাচের সফল গোলদাতা | মাতেউস কুনিয়া (২টি গোল) |
| বাতিল হওয়া গোলের সংখ্যা | ২টি (রাফিনিয়া ১২ মিনিট, এনদ্রিক ৭৮ মিনিট) |
| গোল বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ | অফসাইড |
| নষ্ট হওয়া সহজ সুযোগ | কমপক্ষে ৩টি |
| প্রথমার্ধের গোল সংখ্যা | ব্রাজিল ৩, হাইতি ০ |
| দ্বিতীয়ার্ধের গোল সংখ্যা | কোনো গোল হয়নি (০-০) |
প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ানোর পর ব্রাজিলের ফুটবল কৌশল নিয়ে যে নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, হাইতির বিরুদ্ধে এই সহজ জয়ের মাধ্যমে দল সেই সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছে। মাতেউস কুনিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে এবং সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছে। তবে প্রথমার্ধের আক্রমণাত্মক রূপ দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখতে না পারা এবং একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করার বিষয়টি কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য ভবিষ্যতে চিন্তার কারণ হতে পারে। তা সত্ত্বেও, এই জয়টি বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বের লড়াইয়ে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।