রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি অস্ত্রসহ এক শীর্ষ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সোহেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, সোহেল এবং তার সহযোগীরা মূলত রাতের বেলায় নির্জন সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও জনবহুল এলাকার আশপাশে অবস্থান নিয়ে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাই করতেন। তারা ধারালো অস্ত্র ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ভীতি সৃষ্টি করে দ্রুত নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিতেন।
অভিযানটি মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকায় পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে সোহেলকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র, কিছু গুলি এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
র্যাব আরও জানিয়েছে, সোহেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় স্থান পরিবর্তন করে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করতেন।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম ও অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেছে র্যাব। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রবিবার সকাল ১১টায় র্যাব-২ এর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, অভিযানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এবং ছিনতাই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
নিচে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
বিবরণ
অভিযানের স্থান
মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা
গ্রেপ্তার ব্যক্তি
সোহেল
অভিযানের সময়
রাতভিত্তিক বিশেষ অভিযান
উদ্ধারকৃত সামগ্রী
বিদেশি অস্ত্র, গুলি, ছিনতাই সরঞ্জাম
অভিযোগ
ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ব্যবহার
অভিযান পরিচালনাকারী
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন
র্যাব জানিয়েছে, রাজধানীতে ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোর তালিকা তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা কিছুটা কমলেও এখনও রাতের বেলা আতঙ্কে চলাফেরা করতে হয়। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার সোহেলকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ছিনতাই সংক্রান্ত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।