নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার দপ্তরে। অভিযোগটি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. আ. কাদের সিকদার, কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি এলাকার বাসিন্দা। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, নড়াগাতি মারকায ছওতুল কোরআন এবং নড়াগাতি মহিলা মাদরাসার উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য টিআর প্রকল্পের আওতায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ইতিমধ্যে মাদরাসা দুটির নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলাকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিস খরচের বাইরে অতিরিক্ত এক লাখ টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি কথিতভাবে জানান, ওই অর্থ প্রদান না করা হলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড় করা হবে না। অভিযোগকারী দাবি করেন, এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছয় লাখ টাকার তিনটি পৃথক প্রকল্প দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, একটি প্রকল্পের অর্থ ইতিমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে বাকি দুইটি প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে ২২ জুন পর্যন্ত। সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন। তার দাবি, তিনি কোনো ধরনের ঘুস দাবি করেননি এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ বি এম মনোয়ারুল আলম জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো ভিডিও প্রমাণ বা অতিরিক্ত নথি যাচাই করা হয়নি।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
বিষয়
অভিযোগকারীর বক্তব্য
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য
প্রকল্প অর্থ ছাড়
দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ে এক লাখ টাকা ঘুস দাবি
কোনো ঘুস দাবি করা হয়নি
প্রকল্পের কাজ
নির্মাণ ও মাটি ভরাট সম্পন্ন
একাধিক প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ
প্রমাণ
ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি
অভিযোগ অস্বীকার
প্রশাসনিক অবস্থান
তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ
অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে
স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এখন প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের ওপরই পুরো ঘটনার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা নির্ভর করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।