খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী ও শিরোপাপ্রত্যাশী দল স্পেন তাদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। প্রথম ম্যাচের সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরেছে স্প্যানিশরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে মিকেল ওয়াইরসাবালের জোড়া গোল এবং তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামালের চমৎকার নৈপুণ্যে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্পেন। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল স্প্যানিশ ফুটবল দল।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭১ মিনিটের সময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। তবে সৌদি আরবের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে দলের শুরুর একাদশে (স্টার্টিং লাইনআপ) জায়গা দেন স্প্যানিশ কোচ। প্রথমবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এবং বাজিমাত করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শুরুর প্রথম থেকেই সৌদি আরবের রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত ও দর্শনীয় এক গোল করে দলকে শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ইয়ামাল। তার এই প্রারম্ভিক গোলটি স্প্যানিশ শিবিরের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে স্পেনের হাতে চলে আসে।
ইয়ামালের গোলের পর স্পেনের আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরবের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের ২১ মিনিটের সময় নিজের প্রথম এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মিকেল ওয়াইরসাবাল। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ২৪ মিনিটের মাথায় আবারও সৌদি আরবের রক্ষণব্যুহ ভেদ করে বল জালে পাঠান তিনি।
মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে ওয়াইরসাবালের জোড়া গোলের সুবাদে স্পেন ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তিন গোল খাওয়ার পর সৌদি আরব কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে স্পেন আরও বেশ কিছু কার্যকরী আক্রমণ পরিচালনা করলেও সৌদি আরবের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের তৎপরতায় নতুন কোনো গোল করতে পারেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় স্পেন।
প্রথমার্ধের আধিপত্য বজায় রেখে বিরতি থেকে ফিরেই আবারও গোলের দেখা পায় স্পেন। তবে এবার স্পেনের কোনো খেলোয়াড় সরাসরি গোল করেননি, বরং নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে স্পেনের ব্যবধান বাড়াতে সাহায্য করে সৌদি আরব।
ম্যাচের ৪৯ মিনিটের মাথায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া সৌদি আরবের ডি-বক্সের ভেতর থেকে একটি জোরালো ভলি করেন। সেই ভলিটি সৌদি আরবের গোলরক্ষক প্রথম দফায় চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও বলটি লাইনে থাকা সৌদি ডিফেন্ডার হাসান আল তামবাকতির শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি গোললাইনের ভেতরে ঢুকে যায়। এই আত্মঘাতী গোলের ফলে ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সৌদি আরব। ম্যাচের বাকি সময়ে উভয় দলই কোনো গোল করতে না পারায় ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। এই জয়ের ফলে স্পেন পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডের দৌড়ে টিকে রইল।