খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
নীলফামারী-ডোমার মহাসড়কে সড়ক সংস্কার কাজের অব্যবস্থাপনার কারণে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রাসেল বসুনিয়া (৪৮) নামের সাবেক এক সেনাসদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের নীলাহাটি কালীতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত রাসেল বসুনিয়া নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকার জাকারিয়া বসুনিয়ার ছেলে। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নীলফামারী-ডোমার মহাসড়কে বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তা খুঁড়ে রাখলেও চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা রাখেনি। ঘটনার সময় রাসেল বসুনিয়া তাঁর মোটরসাইকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ডোমারের দিকে যাচ্ছিলেন। কালীতলা এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার একটি বড় খাল ও গভীর গর্ত এড়াতে গিয়ে তিনি মোটরসাইকেলের গতি কমান। ঠিক ওই মুহূর্তেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে সরাসরি ধাক্কা দেয়। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে সাবেক সেনাসদস্য রাসেল বসুনিয়া ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তান ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে যাত্রীবাহী বাসটিও সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে বাসের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী কমবেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয় উৎসুক জনতা ও পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কটিতে সংস্কার কাজ চললেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক খাল ও বড় বড় গর্ত তৈরি করে রাখা হলেও সেখানে কোনো ধরনের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা লাল পতাকা টাঙানো হয়নি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে প্রতিদিন এই রুটে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সংস্কার কাজে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই অকাল প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি ইতোমধ্যে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং সড়ক থেকে উল্টে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে দ্রুত থানা হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।