খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই জুলাই ২০২৬, ৯:৩৫ এএম
একজন সুরসাধক, যিনি সরোদের তারে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের নাম
একুশে পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য সরোদশিল্পী ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন খান ছিলেন বাংলাদেশের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সুরসাধনা, অসামান্য শিল্পপ্রতিভা এবং দীর্ঘ সংগীতজীবন দেশের শাস্ত্রীয় সংগীতকে বিশ্বদরবারে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছে।
১৯৫৮ সালের ৬ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী এক সংগীত পরিবারে তাঁর জন্ম। জন্ম থেকেই তিনি এমন এক পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যেখানে সংগীত ছিল জীবনচর্চার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতজ্ঞ, সুরসম্রাট ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ–এর নাতি। তাঁর পিতা ওস্তাদ আবেদ হোসেন খান ছিলেন প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী ও সেতারবাদক। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে ছিল সংগীতের অসাধারণ ঐতিহ্য। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আম্বিয়া খানম, প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ বাহাদুর হোসেন খান, সংগীত গবেষক ও লেখক মোবারক হোসেন খান, বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান, তানসেন খান, মমতা খানম, ইয়াসমিন খানম, বিটোফেন খান, কোহিনূর খানম এবং রিজিয়া বেগম। কোহিনূর খানম ও রিজিয়া বেগম অকালপ্রয়াণে সংগীতাঙ্গনে পূর্ণ বিকাশের সুযোগ না পেলেও এই পরিবারটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তাঁদের স্মরণ করা হয়।
শৈশবেই পিতা ও পারিবারিক গুরুজনদের কাছে তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। পরবর্তীকালে কঠোর সাধনা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সরোদবাদনে এমন এক স্বতন্ত্র উচ্চতায় পৌঁছান, যা তাঁকে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গৌরবান্বিত করেছেন।
বাংলাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতে তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক লাভ করেন। তিনি শুধু একজন গুণী শিল্পীই ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগীতসাধক, যিনি নতুন প্রজন্মের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে আজীবন কাজ করে গেছেন।
২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর এই মহান শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রয়াণে দেশের সংগীতাঙ্গন হারিয়েছে এক অনন্য সাধককে। তবে তাঁর সরোদের মূর্ছনা, সুরের গভীরতা এবং শিল্পসাধনার উত্তরাধিকার আজও সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান।
জন্মদিনে এই মহান সুরসাধকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।
মন্তব্য