খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: আজ, ৬ মার্চ, ‘জাতীয় পাট দিবস’। পাটকে বলা হয় সোনালি আঁশ। পাট শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে পাট ছিল দেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য ফসল।
বিশ্বে বাংলাদেশের পাটের কদর ছিল ব্যাপক, এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিও পাটকেন্দ্রিকভাবে এগিয়ে চলছিল। ষাটের দশকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় পাট ও পাটজাত পণ্য। বাংলাদেশের জমি, আবহাওয়া, কৃষকদের উদ্দীপনা এবং জনসাধারণের সম্পৃক্ততায় পাট শিল্প তখন স্বমহিমায় এগিয়ে চলছিল।
পাট শিল্পের শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকে। তবে অতীতের সেই সোনালি জৌলুশ এখন হারিয়ে গেছে। সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পাট শিল্প আজ দুর্বল অবস্থায়। সরকারি খাতের বহু পাটকল লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও বেসরকারি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক বাজারে পাটজাত পণ্যের রপ্তানির মাধ্যমে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।
পাটের সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি বিবেচনায় ২০১৬ সালে প্রতি বছর এই দিনে জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় পাট দিবস’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
দিবস উদযাপনকারী প্রতিষ্ঠান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বলছে, কালের পরিক্রমায় কৃত্রিম তন্তুর (পলিথিন) ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান টেকসই উন্নয়নের যুগে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাটজাত পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাটচাষি, পাটজাত পণ্যের উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী, বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উদ্যোক্তা এবং ব্যবহারকারী সবাইকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি দেশব্যাপী উদযাপিত হয়।
এ বছর জাতীয় পাট দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা এবং পাঁচ দিনব্যাপী বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ও ১৫ দিনব্যাপী তাঁতবস্ত্র মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এসব কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন। তেজগাঁওয়ের মনিপুরিপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী আরও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।
খবরওয়ালা/জেআর