খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
মাগুরায় আট বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মেয়েটি মেয়ে হয়ে ওঠেনি, যে মেয়েটি নারী হয়ে ওঠেনি, তার গায়ে হাত দেয় কী করে? এই দেশটা কী কাপুরুষের হয়ে গেলো! এই কাপুরুষগুলো পুরুষ হয়ে চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে দেখার পর সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন।
বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার আট বছরের শিশুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা শারমীন বলেন, ‘এদের দমন করার দায়িত্ব আপনাদেরও। সমাজ কি সুস্থ আছে বলে আপনার মনে হয়? আর আপনার কী মনে হয়, আমি ছয় মাস এসেছি, আর আপনার কী মনে হয়, এই পচে যাওয়া সমাজকে বদলে দেব! বাচ্চাটা জীবন নিয়ে লড়ছে, ডাক্তাররা জানেন না তাকে বাঁচাতে পারবেন কি পারবেন না। ডাক্তাররা কাজ করছেন, তরুণ ছেলে-মেয়েরা প্রতিবাদ করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম কথা, সবাই দোয়া করবেন বাচ্চাটা যেন বাঁচে। ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই বাচ্চাটা যেন সর্বোচ্চ বিচার পায়।’
এসব ঘটনায় আপনাদের সাংবাদিকদেরও দায় আছে। দয়া করে আপনারা দোষীদের কোনোভাবেই জায়েজ করবেন না। বারবার এই ঘটনাগুলো ঘটছে। এগুলো হতে দেওয়া যাবে না। এখানে প্রমাণ আছে, আসামি আছে, কিছুতেই আমরা হাতছাড়া হতে দেব না। এটা অবশ্যই নজরে রাখতে হবে।’
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। পাশবিক নির্যাতনের কারণে শিশুটির যৌনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। তার গলার আঘাত গুরুতর।
শিশুটির চিকিৎসায় গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে তাকে শিশু বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
খবরওয়ালা/এমবি