খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী পুণ্যস্নান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে এ পুণ্যস্নান শুরু হয়েছে। শেষ হবে ৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে।
স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেছে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো পূণ্যার্থী।
এবার দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিয়মিত লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এবার স্নানোৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে আমি নিজে জেলার পুলিশ সুপারসহ ইতিপূর্বে তিনবার লাঙ্গলবন্দে এসেছিলাম সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে।
বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করি তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো এবারের স্নানোৎসবে ড্রোন থাকবে। এছাড়া এবার আমাদের সাথে সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকবে। পূণ্যার্থীদের সুবিধার্তে ম্যাপ টানিয়ে দেয়া হবে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হচ্ছে মহাষ্টমী পূণ্য স্নানোৎসব। আশা করি এবার স্নানোৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসা বিদেশি পূণ্যার্থীদের ব্যাপারে আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ননী গোপাল সাহা বলেন, এবারের মতো এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে কখনও দেখিনি। জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা নিজে হেটে হেটে প্রতিটি ঘাটের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখেছেন। এছাড়া এর আগেও তিনি দুইবার এসেছেন লাঙ্গলবন্দে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে মতবিনিময় করেছেন।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি এবারের স্নান উৎসবে উৎসবমুখর করতে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু নিরাপত্তা বিষয় নয়, দায়িত্ব পালন কালে একজন পুলিশ সদস্যের খাওয়া দাওয়ার বিষয়টিও জেলা প্রশাসক নিজে তদারকি করছেন।
জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি আরও বলেন, আমি শুনেছি তিনি তার চারজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সার্বক্ষণিকভাবে লাঙ্গলবন্দে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় সিসি ক্যামেরা থাকবে। এবার মেজর আফসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় আমার কাছে থেকে আপডেট নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। স্নানোৎসবকে কেন্দ্র সকল রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য ১৪৪২ জন পুলিশ সদস্য, ৪৭১ জন আনসার, নৌ-পুলিশের ৬৪ জন, কোস্টগার্ড ও হাইওয়ে পুলিশের একটি করে টিম দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব নিয়ে পূণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নেবেন। লগ্ন শুরুর পরপরই পূণ্যার্থীর ঢল নামবে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। পাপমোচনের বাসনায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পূণ্যার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠবে লাঙ্গলবন্দ। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের স্নান উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে। বসানো হয়েছে ৭টি ওয়াচ টাওয়ার, ৭০টি অধিক সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বসানো হয়েছে ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প, ১০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ সকল জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্নান উৎসব চলাকালীন সময় প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। সেই সাথে এবার ২০টি ঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নান করবেন।
খবরওয়ালা/জেআর