খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
রংপুরের বদরগঞ্জে দোকান ভাড়াকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বদরগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৩ নম্বর কালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দোকান ঘরের মালিক ও ভাড়াটিয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতরা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাভলু মিয়া (৫০), কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামের বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের মুন্নাফ (৫০) লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম (৪৫) একই ইউনিয়নের ময়নাল হোসেন (২৫)। তাদের প্রথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ বাজারে দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টিনের ব্যবসা করছেন জাহিদুল ইসলাম। গত মাসে হঠাৎ জাহিদুল ইসলামকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু। দোকানের চুক্তিবদ্ধে আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও জাহিদুল ইসলাম দোকান জামানতের ৩৫ লাখ টাকা ফেরত শর্তে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন।
এদিকে, দোকানমালিক জামানতের ওই ৩৫ লাখ টাকা দিতে নারাজ এবং দোকান নিজে না ছেড়ে দিলে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এরই প্রেক্ষিতে দোকান মালিক ইতিয়াক বাবু দলবল নিয়ে গত ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় দোকানঘর ভাঙচুর করেন এবং লুটপাট করেন। এসময় ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম প্রতিবাদ করলে তাকেও বেধর মারপিট করে আহত করেন। বর্তমানে জাহিদুল ইসলাম বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের পক্ষ নেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক। জামানতের টাকা না দিয়ে ভাড়াটিয়াকে মারধর এবং দোকানভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে বদরগঞ্জ শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে মানিক চেয়ারম্যানগ্রুপ। মানববন্ধন চলাকালে অতর্কিত হামলা চালায় সাবেক সংসদ সদস্য রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার গ্রুপ। এর সঙ্গে যোগদেন বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক হুমায়ুন কোভিদ মানিক। হামলা চালিয়ে তারা মানববন্ধনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং মাইক ভাঙচুর করেন। এতে মানিক চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন বাধা দিলে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হন। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক হলেন শফিকুল ইসলাম, লাভলু হাজী, ময়নাল উদ্দিন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএ