নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শ্যামগ্রাম ইউনিয়নজুড়ে ছিল পান চাষের বিপুল প্রসার। স্থানীয়রা পূর্ব পুরুষদের পথ ধরে পানের বরজ গড়ে তুলেছিলেন, যা একসময় এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং অন্যদিকে কৃষি বিভাগের তেমন পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে পান চাষের আগ্রহ। এক সময়ের শতাধিক বরজ এখন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮-১০টিতে।
শ্যামগ্রাম, শ্রীঘর, ও শাহবাজপুর গ্রামের বহু পরিবার যাদের আয়ের প্রধান উৎস ছিল পান চাষ, এখন তারা অন্য ফসলে ঝুঁকছেন। কারণ, বরজে রোগবালাই দেখা দিলে তারা কৃষি বিভাগ থেকে তেমন কোনো পরামর্শ বা সহায়তা পান না। বাধ্য হয়ে তারা নিজের অভিজ্ঞতা কিংবা স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করেন। এতে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
স্থানীয়রা জানান, একটা সময় দেখতাম আমাদের এলাকায় পান চাষ করতে চাষিরা বেশ আগ্রহ দেখাতো। তবে বর্তমানে এর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পুরো এলাকার জুড়ে ৮ থেকে ৯ বিঘা জমিতে গুটি কয়েকজন চাষি পানের চাষ করেন। তারা আরো বলেন, সরকার পান চাষিদের সহায়তা করলে হয়তো পান চাষে চাষিরা আবারো আগ্রহী হতে পারে।
পান চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূর্ব পুরুষদের পেশা হিসেবে তারা পান চাষ করছেন। পানের বরজ তৈরি করে পানের লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পাওয়া গেলেও সার, কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ঔষধ বিক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, এব্যাপারে চাষিরা উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোন পরামর্শ বা সহযোগিতা পায়না। ফলে অনেক সময় তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই পানের বরজ বাদ দিয়ে তারা অন্য ফসল ফলানোর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন।
এখানকার একজন স্থানীয় পান চাষি মিলন দত্ত জানান, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও পানচাষির কপালে সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও জোটে না। কৃষি বিভাগ থেকে যদি পান চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে উৎসাহিত করতেন তাহলে চাষিরা আগ্রহ হারাতেন না। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যেকোনো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষির পাশে কেউ দাঁড়ায় না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আর কেউ এ এলাকায় পান চাষে আগ্রহ দেখাবে না।
রসনা বিলাসের অন্যতম একটি উপকরণ হচ্ছে পান। বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসবসহ বিয়ে-শাদিতে পান-সুপারির কদর সেই আধিকাল থেকেই চলে আসছে। যুগের সাথে অনেক কিছুর চাহিদা কমে গেলেও রসনা বিলাসের অন্যতম এই উপকরণটির চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি এখনো। তাই পান চাষিদের উৎসাহী করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
এ ব্যাপারে নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, উপকূলীয় এলাকা ছাড়া পান চাষের উপর কৃষি বিভাগের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে এখানকার পান চাষিরা যে কোন প্রয়োজনে পরামর্শ চাইলে তাদের আমরা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে থাকি। আগামীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আমি চেষ্টা করবো তাদেরকে সহায়তার আওতায় আানার জন্য।
খবরওয়ালা/এমবি