নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
বগুড়া শহরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে চারটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। চারটি ছিনতাইর ঘটনায় তিনজনকে কুপিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়াও দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন ছিনতাইকারীদের নিক্ষেপ করা ইট পাটকেলের আঘাতে। একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুবদলনেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেছেন, ‘ছিনতাই এর ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ছোড়া- চাকু বিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে।অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছিনতাই এর প্রথম ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কে জয়বাংলা হাট এলাকায়। দুর্বৃত্তরা বালু বোঝাই একটি ড্রাম ট্রাক থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে নিয়ে যায় শহরের ধাওয়া পাড়া এলাকায়। সেখানে বালু আনলোড করে চালককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ট্রাক মালিকের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। রাতে সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ট্রাক চালককে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা চালককে ছেড়ে দিয়ে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ ভোর রাতে যুবদলনেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
২য় ছিনতাই, মঙ্গলবার রাত ১১ টার দিকে শহরের চকসুত্রাপুর এলাকায় যাত্রীবেশী দুইজন ছিনতাইকারী ইব্রাহীম নামের চালককে ছুরিকাঘাত করে তার ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।
৩য় ছিনতাই, বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বনানী মাটিডালী সড়কে বগুড়া পুলিশ লাইন্সের পাশে মেহেদী হাসান নামের এক যুবক মোটরসাইকেল থামিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন।পিছন থেকে অপর একটি মটরসাইকেলে আসা দুই যুবক মেহেদী হাসানকে ছুরিকাঘাত করে তার সাথে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
৪র্থ ছিনতাই, বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে শহরের পর্যটন মোটেলের অদূরে ছিনতাইকারীরা নিতেশ গাঙ্গুলী (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে নগদ আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। নিতেশ রেনজিট এগ্রো সায়েন্স লি. এর বিক্রয় প্রতিনিধি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিতেশ মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় একদল ছিনতাইকারী পথরোধ করে। এরপর রাম দা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, ‘ছিনতাই এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িতরা ধরা পড়বে।’
এদিকে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। বিশেষ করে বগুড়ার দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কে সাবগ্রাম থেকে জয়বাংলা হাট এলাকার মধ্যে সন্ধ্যার পর থেকে মোটরসাইকেল যোগে ছিনতাইকারীরা তৎপর থাকে। গাবতলী উপজেলার চক কাতলী গ্রামের ফজলুল রহমান জানান কয়েকদিন আগে দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়কে সাবগ্রামের অদূরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কয়েকজন ছিনতাইকারী মোটরসাইকেল যোগে এসে গতি রোধ করে তার ইজিবাইক থেকে ব্যাটারি খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। বগুড়া সদরের কর্নপুর গ্রামের বাসিন্দা আজমল হোসেন জানান, একই মহাসড়কে জয়বাংলা হাটের অদূরে তিনি ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রাতে।ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।এসব ছিনতাই এর কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
তবে বগুড়ার পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, অপরাধীদের কোন ছাড় নেই। ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার কারণে ছোরা- চাকু বিরোধী অভিযান শুরু করা হবে।তিনি বলেন ইতিমধ্যে ট্রাক ছিনতাই এবং পুলিশের উপর হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর