খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নাম ভাঙিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিয়ন মাহবুব আলম সুমনের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রত্যেক দরিদ্র অসহায়দের ২ লাখ করে টাক দেবে বলে জানিয়েছেন উপজেলার মৎস্য কার্যালয়ের অফিস সহকারী মাহবুব আলম সুমন। এর জন্য দারিদ্র্যবিমোচন
কর্মসংস্থান ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য জনপ্রতি তাকে দিতে হবে ৬ হাজার করে টাকা।
শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন একটি করে ম্যাসেজ। ওই ম্যাসেজে লেখা হয়েছে আপনার অ্যাকাউন্টে ৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ওই ব্যাংকে তাদের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। যে মোবাইল নম্বর দিয়ে মেসেজ দেওয়া হয়েছে, সেটাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নয়। এভাবে তিনি একটি ইউনিয়ন থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। এমন করে বিভিন্ন ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি।
আবার আরেকটি পৃথক অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৫ লাখ টাকার সরকারি ঘর দেবে বলে জনপ্রতি নিয়েছে দেড় লাখ টাকা করে। গাভি গরু দেওয়ার কথা বলে নিয়েছেন জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতার জন্য নিয়েছেন জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
নাজিরপুর গ্রামের ভুক্তভোগী জনি মিয়া বলেন, তার কাছ থেকে ঘর, টিউবওয়েল, ভাতা ও গরু দেওয়া কথা বলে মাহবুব আলম সুমন মৎস্য কর্মকর্তার পরিচয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সনমান্দী ইউনিয়নের আরেক ভুক্তভোগী তাছলিমা বেগম জানান, এলাকার অনেকের থেকেই বাড়ি ও গাভি গরু দিবে বলে প্রত্যেকের থেকে দেড় লাখ টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার করে টাকা নেয়। এখন অফিসে গিয়ে জানতে পেরেছেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে তারা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহাবুব আলম সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, ভুক্তভোগীরা আগেও একাধিকবার অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। সুমনকে এরই মধ্যে অবৈধভাবে লেনদেনের অভিযোগে একবার ও কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তিনবার শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে রমজান মাস থেকেই অফিসে অনুপস্থিত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফজলুল কবির ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহা: নওশের আলমকে প্রধান করে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ ও বন্দর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিক আবেদীনকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ