খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক ছাঁটাই, বকেয়া বেতন ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বহেরারচালা গ্রামে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। তিন ঘণ্টা পর মহসাড়ক ছাড়ে শ্রমিকরা।
বহেরারচালা গ্রামে অবস্থিত নীট হরাইজন কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। বর্তমানে তারা কারখানার ফটকে অবস্থান করে বিক্ষোভ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে গেটে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান শ্রমিকরা। পরে তারা কারখানার সামনেই বিক্ষোভ করতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহসাড়ক অবরোধ করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যস্ততায় দুপুর ১২টার দিকে মহসাড়ক ছাড়েন তারা।
নীট হরাইজন কারখানার শ্রমিকেরা জানান, মঙ্গলবার ৩০ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে যান। বুধবার সকালে শ্রমিকেরা কর্মস্থলে এসে দেখেন কারখানার মূল ফটকে তালা ঝুলছে।
কারখানার শ্রমিক সুজন বলেন, ‘সকালে কারখানায় কাজ করতে এসে দেখি প্রধান ফটক বন্ধ। কারখানার ফটকের সামনে সাদা কাগজে লেখা অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ, আদেশক্রমে কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানা বন্ধ করবে ভালো কথা, আমাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে কেন। আমাদের এক মাসের বেতন বকেয়া। শ্রমিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র আমাদের ওপর অন্যায় করা হয়। আমরা শ্রমিক বলে আমাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। আমাদের কষ্টের কথাগুলো সবার কানে পৌঁছায় না।’
নীট হরাইজন কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করা হবে।’
পাওনা পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির জন্য এ সিদ্ধান্ত।’
শ্রীপুর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’
খবরওয়ালা/এমইউ