খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৮ জন বেসামরিক নিহতের ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে ভারত। তবে বরাবরের মতোই ভারতেই সেই দাবি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছে পাকিস্তান। এবার এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছে শেহবাজ শরীফের দেশটি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত চেয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদের পানিচুক্তি বাতিলের অজুহাত হিসেবে পেহেলগামের হামলাকে ব্যবহার করছে এবং কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত ছাড়াই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না যে, যুদ্ধের আগুন জ্বলে উঠুক। কারণ এমন পরিস্থিতি দেখা দিলে সেটি এই পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।’
হামলার পরদিন বুধবার প্রতিবেশী দেশটির নাগরিকদের ভিসা বাতিল ও সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারত।
ভারতের পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতীয়দের ভিসা বাতিল, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত, ভারতের বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধসহ বুধবার বেশ কয়েকটি পালটা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ। পালটাপালটি এসব পদক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে যা হয়তো সামরিক সংঘাতে গড়াতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
পেহেলগামে হামলার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, কাশ্মীরের বৃহত্তম বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বা’র (এলইটি) একটি উপশাখা এই টিআরএফ।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে খাজা আসিফ বলেছেন, ‘লস্কর-ই তৈয়বার যারা এখনও জীবিত আছেন, তাদের কেউ কারাগারে আছেন, কেউ বা গৃহবন্দি। এই গোষ্ঠীটির কেউই এখন আর সক্রিয় নয় এবং পাকিস্তানে তাদের কোনো সাংগঠনিক তৎপরতাও নেই।’
খবরওয়ালা/টিএ