খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ মে ২০২৫
পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই চুক্তিকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তারা।
শনিবার (১০ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদসংস্থা আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য শশী থারুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তি অপরিহার্য। ভারত কখনোই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চায়নি। যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাসীদের শিক্ষা দেওয়া, এবং সেই শিক্ষা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে।’
রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিব্বল উভয় দেশকে যুদ্ধবিরতির জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এখন থেকে আর নিরীহ মানুষকে প্রাণ হারাতে হবে না, যারা এই সংঘাতে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ।’ তবে তিনি সতর্ক করেন, ‘যদি পাকিস্তান আবার সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, তাহলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।’
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাশ্মীর শাখার নেতা রবীন্দ্র রায়না বলেন, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানকে তার প্রতিটি অপকর্মের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। পাকিস্তান এখন হাঁটু গেড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’
কাশ্মীরের শ্রীনগরে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী মেহবুবা মুফতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, ‘সামরিক সমাধান কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। একটি রাজনৈতিক উদ্যোগই কেবল টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।’
নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়নের একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তীব্র সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর। এর আগে দু’দেশের মধ্যে বিমান হামলা, সীমান্তে গোলাগুলি এবং ড্রোন ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধবিরতি দু’দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও কূটনৈতিক বিরতি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতের শান্তিপূর্ণ সংলাপের ভিত্তি হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
খবরওয়ালা/আরডি