দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: 4শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৮ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রসহ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগী পালিয়ে যায়।
শনিবার (১৭ মে) গভীর রাতে দৌলতপুর উপজেলার চকরাজাপুর ঘাট এলাকায় ৪৭ বিজিবির একটি টহল দল এ অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক মো. জাকিরুল ইসলাম। অভিযানের সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, পিএসসি।
গ্রেপ্তার মো. নাহারুল মৃধা (৫৮) জেলার দৌলতপুর থানার ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত জানবান মৃধা। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের সময় নাহারুল মৃধা নিজেকে অন্য নামে পরিচয় দেয়। পরে বায়োমেট্রিক যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে নাহারুল মৃধা স্বীকার করেন, ২০২২ সালে সংঘটিত একটি ডাকাতি ও হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি সে। মামলায় অন্য আসামিরা ৩০ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত হলেও সে ভারত পালিয়ে যায়। চার মাস আগে গোপনে দেশে ফিরে এসে আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া তিন সহযোগী হলেন—মো. রাখি মন্ডল (৪০), মো. বিপ্লব (২৯) ও মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (২৬)। তারা সবাই দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী।
রাখি মন্ডল একজন মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত, আর বিপ্লব ও জাহাঙ্গীর ‘লালচাঁদ সন্ত্রাসী গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলা’-সহ একাধিক মামলার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
গ্রেপ্তার নাহারুল মৃধাকে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে (মামলা নম্বর: ২৮)।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতকদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি