খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
সপ্তাহে এক দিন ছুটি ও গৃহকর্তার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার আশা করেন গৃহকর্মীরা। কাজে একটু ভুলত্রুটি হলে গৃহকর্তার কড়া কথা কষ্ট দেয় তাদের। এমনকি অসুখ-বিসুখ হলেও কাজে যেতে হয় ,কারণ তাদের কোনো ছুটি নেই।
বুধবার (২৮মে) রাজশাহীতে গৃহকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক জনসংলাপ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গৃহকর্মীরা। বেসরকারি উন্নয়ন ও গবেষণা সংস্থা বারসিক মহানগরীর একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এই জনসংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে ৭০ বছরের গৃহকর্মী শহরবানু বিবি বলেন, পদ্মাপাড়ের বস্তিতে থাকি। আমার একটি হাত ভাঙা। তাই একটি বাড়িতে কাজ করেন। সেই বাড়িতে খাবার খান, মাস শেষে ১ হাজার টাকা বেতন পান। কোনো কাজে ভুলত্রুটি হলে গৃহকর্তার কড়া কথা তাকে কষ্ট দেয়।
আরেক গৃহকর্মী মুনমুন বললেন, কাজ করতে করতে একদিন তিনি মাথা ঘুরে পড়ে মেঝেতেই ঘুমিয়ে যান। গৃহকর্তার স্ত্রী তখন তাকে পা দিয়ে লাথি দিয়ে তোলেন। সেদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে পরের দিনটা ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। অসুস্থ শরীরেই তাকে কাজ করতে হয়েছে। কাজে না গেলে তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হতো। মুনমুন আরও বলেন, আমরাও মানুষ। আমাদেরও অসুখ-বিসুখ হয়। অন্তত একটা দিন ছুটি দরকার।
নগর দরিদ্র অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, গৃহকর্মীরা বাড়িতে ভালোমন্দ রান্না করেন। সেই খাবার গৃহকর্মীকে খেতে দেওয়া হয় না। অসুস্থ হলে তারা গৃহকর্মীর বেতন কেটে নেন। এসব ক্ষেত্রে উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। অবশ্য কিছু কিছু ব্যতিক্রমও আছে। তারা গৃহকর্মীদের যথেষ্ট ভালোবাসেন।
উন্নয়নকর্মী সম্রাট রায়হান বলেন, অবহেলিত গৃহকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ে তাদেরও অ্যাসোসিয়েশন থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি গৃহকর্তারও মানসিকতার উন্নয়ন দরকার। জনসংলাপে গৃহকর্মীদের নানা পরামর্শ দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজশাহীর সহকারী পরিচালক নীলা ইয়াসমিন, শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল আমিন, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের সুপার ফেরদৌস রাবিয়া ও সাংবাদিক আইনুল হক। সংলাপ পরিচালনা করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম।
এর আগে বারসিকের পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি অফিসার আমরীন বিনতে আজাদ গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন। চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, রাজশাহীতে এখনো ১১ শতাংশ গৃহকর্মীর বয়স ১৫ বছরের নিচে। গৃহকর্মীদের ৪০ শতাংশই নিরক্ষর। মাসে ২ হাজার টাকার কম বেতন পায় ২৫ শতাংশ গৃহকর্মী, আর ৪ হাজার টাকার বেশি বেতন পায় মাত্র ১০ শতাংশ। গবেষণা প্রতিবেদনে শিশুশ্রম বন্ধ করা, বেতন না কেটে গৃহকর্মীদের ছুটি ও স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এফএস