খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষুব্ধ ইরান আবারও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য ওয়াশিংটনকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। একইসঙ্গে নতুন করে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান।
সোমবার (২৩ জুন) সকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ আব্দুলরহিম মৌসাভি বলেন, ‘ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে প্রবেশ করেছে।’ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাগুলোও এখন ইসলামি যোদ্ধাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে।
ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মৃতপ্রায় জায়োনিস্ট শাসনকে বাঁচাতে হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এর ফলে ইরানি বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু বাড়বে এবং যুদ্ধের ক্ষেত্র বিস্তৃত হবে।’ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে ইংরেজিতে বলেন, ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প, তুমি যুদ্ধ শুরু করতে পারো—কিন্তু শেষ করব আমরা!’
সোমবার ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ‘একপথী’ ড্রোন ও অ্যান্টি-ফর্টিফিকেশন ওয়ারহেড ছোড়া হয়েছে, যার বেশিরভাগই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, আক্রমণের ফলে তেল আবিব, লাচিশ ও আশদোদ অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল পাল্টা জবাবে সোমবার ইরানের পশ্চিম, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের অন্তত ছয়টি বিমানবন্দর এবং রাজধানী তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা বোমাবর্ষণ করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, কেরমানশাহ অঞ্চলে ইরানের সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্রের লঞ্চ ও স্টোরেজ সাইটে হামলা চালানো হয়েছে।
তেহরান ও পাশের কারাজ শহরেও সোমবার দুপুরে ব্যাপক বিমান হামলা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচার কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, কারণ সম্প্রচার কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। রাজধানীর খ্যাতনামা শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ভবন ও কুখ্যাত এভিন কারাগারের প্রবেশপথেও বোমাবর্ষণ হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। অপরদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পার্লামেন্টে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
ইরান ঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তবে তারা ফের সমুদ্রপথে হামলা শুরু করবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আরাঘচি রাশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পক্ষে ‘কার্যকর ভূমিকা’ রাখতে মস্কোর প্রতি আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, ‘এ অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে গেছে, অবিলম্বে সবপক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’ একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারাও ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন।
ইরানের পত্রিকাগুলো সোমবারের সংখ্যায় মার্কিন হামলার নিন্দা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার খবর শিরোনাম করেছে। কেহান লিখেছে, ‘ইরানি খায়বার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এন