খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিলুপ্তির আশঙ্কা ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন এনবিআর ভবনের তিনটি ফটকে ভেতর ও বাইরে—উভয় দিক থেকে তালা লাগানো হয়। এতে ভবনের ভেতরে ও বাইরে অবস্থানকারীরা আটকে পড়েন এবং এনবিআর ভবন কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলেও পরে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বাইরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরাও বাইরের দিক থেকে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে উভয় পক্ষই ভবনে প্রবেশ কিংবা বহির্গমন করতে পারেননি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই সেখানে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ার পরেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
এদিন বিকেলে ভবনের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ জানায়, অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, আমাদের কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় না থাকায় সেই বৈঠকে আমাদের অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।
তারা ভবনের গেট ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, এটি কর্মকর্তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করেছে। এক নেতা বলেন, এই ঘটনাটি বিগত সময়ের জুলাই আন্দোলনের সময়কার দমন-পীড়নের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এনবিআর ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব বা পদক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না। একই সঙ্গে তারা এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিও তুলছেন। তাদের ভাষায়, এনবিআরকে দুর্বল বা ভেঙে ফেলার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলবে।
আজও আন্দোলনকারীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কলম বিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাসান মুহাম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, ‘আমাদের ভবনের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাই বাইরে থেকেই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি।’
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এনবিআর কর্তৃপক্ষ কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/আরডি