খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী কোনার পাড়ায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। নেশাগ্রস্ত এক পাষণ্ড পিতা তার চার বছর বয়সী শিশু কন্যাকে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। পরে জনতার হাতে আটক হয়েছেন ওই পিতা।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ওসি আরিফ হোসেন। অভিযুক্ত ঘাতক বাবা আমান উল্লাহ (৪০), যিনি ওই এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, আমান উল্লাহ নেশা করে বাড়ি ফিরে প্রথমে অকারণে তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের চার বছর বয়সী শিশু মেয়েটি কাছে এলে, আমান উল্লাহ তাকে ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
আরও জানা যায়, হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ঘাতক বাবা মেয়েটির নিথর দেহ মনখালী খালে ফেলে দেন। মারধরের শিকার স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হয়ে স্থানীয় দোকানদার ও প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ইনানী পুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্যোগ সরকার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘাতক বাবাকে আটক করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে আমান উল্লাহ হত্যার দায় স্বীকার করে বলেন, “মদ, ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে মাতাল অবস্থায় স্ত্রীকে পেটানোর পর মেয়েকে হত্যা করেছি।”
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা নিজের শিশু সন্তানকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
খবরওয়ালা/টিএস