খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে একের পর এক শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে পড়ায় আর্সেনালের চলতি মৌসুমের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বড় ধাক্কা খেয়েছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে মিকেল আরতেতার দল ট্রেবল বা এমনকি কোয়াড্রপল জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল, এখন সেই সম্ভাবনা কার্যত সীমিত হয়ে এসেছে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতায়।
কারাবাও কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হারের পর সর্বশেষ বড় আঘাত আসে এফএ কাপ থেকে। দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা এবং পয়েন্ট তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা সাউদাম্পটনের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় আর্সেনাল। ফলাফলটি শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, বরং দলটির সাম্প্রতিক মানসিক দৃঢ়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই পরাজয়ের ফলে আর্সেনালের সামনে এখন কেবল দুটি বড় লক্ষ্য—প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম, ইনজুরি সমস্যা এবং ধারাবাহিক চাপ বিবেচনায় নিলে সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়ছে দ্রুত।
প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল বর্তমানে শীর্ষে থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে মাত্র ৯ পয়েন্ট এগিয়ে আছে, যেখানে সিটি একটি ম্যাচ কম খেলেছে। সেই ম্যাচে সম্ভাব্য জয় হিসাব করলে ব্যবধান নেমে আসতে পারে ৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ শিরোপা লড়াই এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে সহজ মনে হলেও চাপ কম নয়। শেষ আটে ওঠা দলগুলোর মধ্যে স্পোর্তিং সিপিকে সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে নকআউট ফুটবলে সামান্য ভুলও বড় মূল্য দিতে পারে, যা আর্সেনালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেই দেখা যাচ্ছে।
টানা দুই হার শুধু দুটি শিরোপার স্বপ্নই শেষ করেনি, বরং ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দলটিকে ধারাবাহিক পরাজয়ের মুখে ফেলেছে। গত কয়েক মাস ধরে যে আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ গড়ে উঠেছিল, তা হঠাৎ করেই ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
| প্রতিযোগিতা | বর্তমান অবস্থা | সর্বশেষ ফল | সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ |
|---|---|---|---|
| প্রিমিয়ার লিগ | শীর্ষে (৯ পয়েন্ট এগিয়ে) | টিকে আছে | ম্যানচেস্টার সিটি |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ | কোয়ার্টার ফাইনাল | অগ্রগতি চলছে | নকআউট চাপ |
| এফএ কাপ | বিদায় | সাউদাম্পটনের কাছে ১-২ হার | শেষ আটে ব্যর্থতা |
| কারাবাও কাপ | রানার্সআপ | ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার | ফাইনাল ব্যর্থতা |
সাবেক ফরোয়ার্ড থিও ওয়ালকট মনে করছেন, এই ধরনের চাপের পরিস্থিতি আর্সেনাল আগেও দেখেছে, তবে এবার তা পুনরাবৃত্তি না করাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ (প্রায় ২৫ কোটি পাউন্ড) করা সত্ত্বেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারাকে তিনি অস্থিরতার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে কোচ মিকেল আরতেতা অবশ্য খেলোয়াড়দের দোষারোপ করতে নারাজ। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দল অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং একটি বা দুটি হার সেই প্রচেষ্টাকে ম্লান করতে পারে না।
তবে বাস্তবতা হলো, আঘাতের ধাক্কাও দলটিকে বড়ভাবে ভুগিয়েছে। সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে সাতটি পরিবর্তন করতে হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি দলে ভারসাম্য নষ্ট করেছে। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের হাঁটুর চোট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো আর্সেনাল এই ভাঙন কাটিয়ে আবারও ছন্দে ফিরতে পারবে কি না, নাকি মৌসুমের শেষ দিকে এসে আরেকবার শিরোপা হাতছাড়া করবে—যা গত কয়েক মৌসুমে তাদের জন্য এক পরিচিত দুঃখে পরিণত হয়েছে।