খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
বরগুনার আমতলী সদর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠুর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং ইউপি সদস্যসহ দুজন আহত হন। হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান তাপস এবং প্যানেল চেয়ারম্যান রাসেল আকনকে আটক করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৯ জুন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মিঠুকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ জুলাই পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বুঝে নেন ফিরোজ খান তাপস। এরপর রবিবার সকাল ১০টার দিকে জাহিদুল ইসলাম মিঠু ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে সেবা নিতে আসা দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাপসের লোকজন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করেন। হামলায় ইউপি সদস্য সোহেল খানসহ দুইজন আহত হন।
আহত ইউপি সদস্য সোহেল খান গণমাধ্যমকে জানান, ফিরোজ খান তাপস ইউপি কার্যালয়ে ঢুকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তিনি ককটেল ফাটিয়ে এবং রামদা ও হকিস্টিক নিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করতে যান। আমি এবং চেয়ারম্যানের ভাই জসিম মৃধা রক্ষার জন্য এগিয়ে গেলে তিনি আমাদের কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ফিরোজ খান তাপস বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা ও বানোয়াট। চেয়ারম্যান মিঠু মৃধা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোক, তাই তিনি আমার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ করেছেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘ফিরোজ খান তাপস গত ১৯ জুন চায়ের দোকানে বসে একটি দায়িত্ব হস্তান্তর লিখে এনে আমাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে দায়িত্ব জোরপূর্বক নিয়ে নেন। আজ যখন আমি ইউপি কার্যালয়ে আসি, তিনি আমাকে হত্যা করার জন্য হামলা চালান। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে যাই।’
অ্যামতলী থানার সহকারী পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি। দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
খবরওয়ালা/আরডি