খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে। গ্রুপপর্বে স্বাগতিক মিয়ানমারকে ২-1 গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দুই গোলই করেন দলের অধিনায়ক ঋতুপর্ণা চাকমা।
এরপর গ্রুপের অন্য ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ড্র করায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই এশিয়ান কাপ আসরটি ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবেও গণ্য হবে।
১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া নারী এশিয়ান কাপে এবার পর্যন্ত ২২টি দেশ অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ২৩তম দেশ হিসেবে টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিল। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া—এই পাঁচটি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
২০২২ আসরের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়। স্বাগতিক হিসেবে সুযোগ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আর বাছাইপর্ব পেরিয়ে প্রথম দল হিসেবে জায়গা পেয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৬ সালের ১ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহরের পাঁচটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে নারী এশিয়ান কাপ। খেলাগুলো হবে সিডনির স্টেডিয়াম অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়াম, গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়াম এবং পার্থের দুইটি স্টেডিয়ামে।
১২ দল নিয়ে হবে মূল টুর্নামেন্ট, যাদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। ড্র অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুলাই সিডনি টাউন হলে। চারটি পটে ভাগ করা হবে দলগুলোকে—ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ বর্তমানে ১২৮ নম্বরে থাকায় চতুর্থ পটে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি দল। তিনটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ এবং তৃতীয় স্থান পাওয়া সেরা দুটি দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।
২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ থেকেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপে এশিয়ার প্রতিনিধিত্ব। সেমিফাইনালে পৌঁছানো চারটি দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চার দল দুইটি প্লে-ইন ম্যাচ খেলবে। এখান থেকে দুই জয়ী দলও সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। হারলে অন্তিম সুযোগ হিসেবে রয়েছে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ।
এই এশিয়ান কাপ থেকেই নির্ধারিত হবে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের নারী ফুটবল বাছাইপর্বের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেই সুযোগ মিলবে অলিম্পিকের কোয়ালিফায়ারে। সেখানে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা হবে, আর চূড়ান্ত দুই চ্যাম্পিয়ন যাবে অলিম্পিকে।
ঋতুপর্ণারা শুধু ইতিহাসই গড়েননি, তারা সামনে খুলে দিয়েছেন বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের দরজাও। চূড়ান্ত পর্বে তাদের লড়াই শুধু একটি কাপের জন্য নয়, বরং গোটা নারী ফুটবলকেই এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ।
বাংলাদেশ এখন শুধু আর অংশগ্রহণকারীর দল নয়—তারা সম্ভাবনার নাম।
খবরওয়ালা/এমএজেড