খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান অস্থিরতা ও প্রশাসনিক সংকট ফের নতুন মোড় নিয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার, গণক্ষমা ও সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও এক ডজনেরও বেশি ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এনবিআর-এ ফের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে আয়কর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যায়। এ আন্দোলনের জেরে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সরকার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার আশ্বাস দেয়। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ আশ্বাসের প্রেক্ষিতেই আন্দোলনকারী কর্মকর্তারা ব্যাচ ধরে গণক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কাস্টমস ও ট্যাক্স ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তা এবং দুজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআর।
বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি তারেক রিকাবদার, সহসভাপতি মির্জা আশিক রানা, অতিরিক্ত কমিশনার সিফাত-ই-মরিয়ম, উপকমিশনার সাহাদা জামিলসহ আরো ১০ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কার্যক্রম শুরুর কথা বলা হয়েছে।
এর আগে ঐ আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিল, আন্দোলন দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর দুদক কিছুটা নীরব হয়ে গেলেও এনবিআরের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকল।
সরকারের মুখপাত্রদের বারবারের আশ্বাসের পরও এমন সাময়িক বরখাস্ত এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বড় রকমের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, এর ফলে রাজস্ব প্রশাসনে পারস্পরিক আস্থা বিনষ্ট হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা আসবে।
সূত্র জানায়, সামনে আরও শতাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলির সিদ্ধান্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সচিবালয়ে এনবিআর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠকের পর গতকাল সকালে একযোগে বরখাস্তের আদেশ জারি হয়।
গণক্ষমা, আশ্বাস ও দায়িত্বে ফেরার পরও যেভাবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাতে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ আরও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত তদন্ত ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করলে রাজস্ব আদায়ের মূল স্তম্ভেই আঘাত হানতে পারে এ ধরনের অনাস্থা ও দমননীতি।
খবরওয়ালা/এমএজেড