খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
ঢাকার একটি মাদরাসায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফেজ মোহাম্মদ তৌফিক সিয়াম (১৭)–এর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য ও উদ্বেগ।রোববার (২০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তৌফিকের পরিবারকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার টয়লেট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
তৌফিক রাজধানীর মারকাজু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। জাতীয় হিফজ প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।
তৌফিকের পরিবার আত্মহত্যার বিষয়টি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, তৌফিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
তার বাবা মো. সালাউদ্দিন সরদার বলেন, “ছেলেটি কখনোই আত্মহত্যা করতে পারে না। সে ধর্মভীরু, নিয়মিত পড়ালেখায় মনোযোগী এবং জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত। এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
আত্মীয় এম শরিফ উদ্দিন জানান, মরদেহের অবস্থান সন্দেহজনক ছিল—এক পা টয়লেট প্যানের ভেতরে, আরেক পা ভাঁজ হয়ে মেঝেতে ঠেকানো। তিনি বলেন, “এভাবে আত্মহত্যা সম্ভব নয়, এর পেছনে নিশ্চয়ই গভীর রহস্য আছে।”
তৌফিকের চাচা আকছেদ আলী বলেন, “ঘটনার পরপরই মাদরাসায় গিয়ে পুলিশকে মরদেহ উদ্ধার করতে দেখি। একটি ছবিতে তার একটি পা মেঝেতে ছিল। আমি নিজেই ময়নাতদন্তের অনুরোধ জানাই।” মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
ঢাকার দারুস সালাম থানার এএসআই আজিজুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় শরীরে বেতের দাগ ছিল। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে, রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
এই ঘটনার পর সাতক্ষীরার গাবুরাসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
খবরওয়ালা/টিএস