খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
পদ্মা নদীতে অব্যাহত বালু উত্তোলন বাড়িয়ে তুলছে ভাঙনের তীব্রতা। অসহায় হচ্ছে দুই পাড়ের শত শত পরিবার। নদীভাঙনের পেছনে দুর্বল বাঁধের পাশাপাশি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু কাটা। নদী তীরবর্তী মানুষদের আশঙ্কা, এখনই বালু লুট বন্ধ না হলে শুধু বাড়িঘর নয়, হুমকির মুখে পড়বে প্রকৃতি ও পরিবেশও।
নদীর ধর্ম এক পাড় ভাঙা, অন্য পাড় গড়া হলেও অর্থলোভী কিছু চক্রের কারণে এখন তা হয়ে উঠেছে ভয়াল দুর্যোগ। শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ার মাঝামাঝি মাঝিরকান্দি পাইন পাড়া চরের হাজারো পরিবার আজ নিঃস্ব। একসময় যেখানে ছিল জমি ও ঘরবাড়ি, এখন তা শুধুই স্মৃতি।
গত কয়েক বছরে পদ্মার তীব্র ভাঙনে প্রায় ২ হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রাকৃতিক ভাঙনের পাশাপাশি মূল কারণ ছিল বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দিনের পর দিন চরের বালু তুলে বিক্রি করা হয়েছে। গণ্যমান্যদের কাছে অভিযোগ, সালিশ—সবই ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনো মৌসুমে যেভাবে বালু তোলা হয়, তার প্রভাব পড়ে বর্ষায়। নদীর গতিপথ পাল্টে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন ভাঙন। চলতি বর্ষায় পদ্মা সেতুর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরও অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলতাফ হোসেন খান। তিনি দাবি করেন, নদীভাঙনের সঙ্গে বালু উত্তোলনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এখানে কোনো অবৈধ বালু বিক্রি হয় না।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, যত্রতত্র ড্রেজিং ও অপরিকল্পিত নদীশাসন ভাঙনের অন্যতম কারণ। জাজিরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, “অবৈধ ড্রেজার দিয়ে যারা বালু তোলে, তারা শুধু নিজেদের লাভ দেখে, ক্ষতিটা হয় তীরবর্তী মানুষের।”
অভিযানের সময় স্থানীয় প্রশাসনও বালুখেকোদের বাধার মুখে পড়ছে। জাজিরা উপজেলার ইউএনও কাবেরী রায় জানান, এক অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেটকে হামলার শিকারও হতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা মনে করছেন, পদ্মার ভাঙন ঠেকাতে এখনই প্রয়োজন অবৈধ বালু উত্তোলনে কঠোর ব্যবস্থা এবং বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন পরিকল্পনা। না হলে নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে আরও জনপদ, পথে বসবে আরও হাজারো পরিবার।
খবরওয়ালা/টিএস