খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বলেছেন, “বাংলাদেশেরই এখন আর কোনো লাইফ নেই। পুরো দেশটাই লাইফ সাপোর্টে আছে।” বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয়ে ঢুকে ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। একইসঙ্গে জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের যুক্তি, রাষ্ট্রপক্ষের বিরোধিতা এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ ঘিরে পুরো প্রক্রিয়ায় উঠে আসে বিভিন্ন বক্তব্য।
বেলা ২টা ২০ মিনিটে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন।
আসামি জেফরি অভিষেক শিকদার ও শাকিল মিয়ার পক্ষে আইনজীবী সালাহউদ্দিন খান বলেন, “তারা মেধাবী ছাত্র, আবেগে পড়ে সচিবালয়ে গিয়েছিল। হয়তো ভুল করেছে, কিন্তু ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করা উচিত।” তিনি জানান, শাকিল মিয়ার আগামী রোববার দনিয়া কলেজে পরীক্ষা রয়েছে।
তানভীর নামের এক আসামির পক্ষে আইনজীবী বলেন, “তানভীর এইচএসসি পরীক্ষার্থী।” অন্যদিকে আবু সুফিয়ানের আইনজীবী তাহমিনা আক্তার লিজা বলেন, “তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কারাগারে পাঠানো হলে তার ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।”
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “আসামিরা ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা কোনো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ না। সচিবালয়ে ঢুকে তারা পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর করেছে। এই কর্মকাণ্ড দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা।”
তিনি আরও বলেন, “কারা তাদের অর্থায়ন করছে, কারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে—এটা রাষ্ট্রের জানা দরকার। তদন্তের প্রয়োজনে রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।”
বিচারক জিজ্ঞেস করেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কে?” আবু সুফিয়ান তখন বলেন, “আমি সচিবালয়ে যাইনি, বাইরে ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার পথে আমাকে ধরা হয়। আমি ‘জুলাই আন্দোলনে’ বিজয় একাত্তর হলের সহ-সমন্বয়ক ছিলাম।”
বিচারক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এখন সমস্যাটা হচ্ছে, ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের যারা ভূমিকা রেখেছে, তারাও আজ ষড়যন্ত্রের শিকার?”
তিনি আরও বলেন, “এতো গোল্ডেন এ+ দিয়ে কী হবে, যখন সিডিএমএস-এ তাদের জীবনটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে? যেখানে দেশেরই আর কোনো ‘লাইফ’ নেই, ওদের লাইফ তো আগেই শেষ। পুরো দেশটাই এখন লাইফ সাপোর্টে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড