এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
আজ, ২৮ জুলাই — ইতিহাসে গাঁথা এক শোকগাথার দিন। আজ ক্ষণজন্মা দুই মহীরুহ বাঙালি— বিপ্লবের প্রাণপুরুষ কমরেড চারু মজুমদার এবং সাহসী কথাশিল্পী ও মানবাধিকার সংগ্রামী মহাশ্বেতা দেবী-র প্রয়াণ দিবস।
চারু মজুমদার — বিপ্লবের নামান্তর
তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক দর্শনের প্রতীক, এক স্বপ্নবাজ যোদ্ধা।
নকশালবাড়ী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ চারু মজুমদার বলতেন—
“যে স্বপ্ন দেখে না এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখায় না, সে কখনোই বিপ্লবী হতে পারে না।”
এই একটি বাক্যেই ফুটে ওঠে তার আদর্শ ও অগ্নিগর্ভ আত্মবিশ্বাস।
১৯৭২ সালের এই দিনে, রাষ্ট্রীয় হেফাজতে পুলিশের নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান তিনি।
তাঁর প্রয়াণ নয়, আজও আমাদের বিপ্লবের শপথে জেগে থাকার আহ্বান।
কমরেড চারু মজুমদার— আপনি কেবল ইতিহাসের পাতায় নয়, থেকে গেছেন লাল স্বপ্ন দেখানো প্রতিটি বিপ্লবীর মর্মে।
আপনাকে লাল সালাম।
মহাশ্বেতা দেবী — সাহিত্যের মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর
তিনি ছিলেন এক অনন্য সাহিত্যিক, সমাজসচেতন চিন্তক, এবং নিরন্তর সংগ্রামী মানবিক শক্তি।
১৯২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি, ঢাকার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম। শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা।
তার রক্তে ছিল কলমের ভাষা, চোখে ছিল দ্রষ্টার দৃষ্টি।
‘হাজার চুরাশির মা’ উপন্যাসে তিনি শুধু এক মায়ের যন্ত্রণা নয়, রাষ্ট্রের নির্মম মুখোশকে উন্মোচন করেছিলেন।
সাঁওতালসহ অনগ্রসর আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তার কলম ছিল তীক্ষ্ণ অস্ত্র।
তার কিছু বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম:
অরণ্যের অধিকার, বন্দোবস্তী, স্তনদায়িনী, শিকার পর্ব, রুদালী, তিতুমীর, ডাস্ট অন দ্য রোড, প্রস্থানপর্ব, ইত্যাদি।
তিনি পেয়েছেন র্যামন ম্যাগসেসে (১৯৯৭), পদ্মবিভূষণ (২০০৬), জ্ঞানপীঠ পুরস্কার এবং সার্ক সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মান।
তাঁর সন্তান নবারুণ ভট্টাচার্য ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম আধুনিক কণ্ঠ।
২৮ জুলাই ২০১৬ সালে, আমাদের ছেড়ে বিদায় নেন এই অগ্নিময় লেখিকা।
তাঁর সৃষ্টিশক্তি আজও সমাজবিরোধী অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলমে কলমে কথা বলে।
মহাশ্বেতা দেবী— আপনি ছিলেন প্রতিবাদের মুখ, সাহিত্যের জননী।
আপনাকে লাল সালাম।
অন্তিমে…
আজকের এই দিনটি কেবল শোকের নয়, প্রতিজ্ঞার।
চারু মজুমদারের বিপ্লব ও মহাশ্বেতা দেবীর সাহিত্যের আলো—
এই দুই দীপ্ত আলোকবর্তিকার প্রতি আমরা জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা,
অন্তরতম ভালোবাসা ও হৃদয়ের গভীর থেকে…
লাল সালাম।
লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড