খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অন্যান্য অপকর্মের অভিযোগ জানতে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে কুষ্টিয়ায় স্থাপিত বিএনপির অভিযোগ বাক্সে জমা পড়েছে চাঞ্চল্যকর কয়েকটি অভিযোগ। বুধবার (৩১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে বাক্সটি খোলা হয় এবং অভিযোগগুলো পাঠ করে শোনান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার।
এ সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ, সহসভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, কোষাধ্যক্ষ এম লিটন-উজ-জামান, দপ্তর সম্পাদক মোকাদ্দাস হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, ২১ জুলাই কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের প্রধান ফটকের পাশে জেলা বিএনপি একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ছিল, দলীয় কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে, সাধারণ জনগণ যেন লিখিতভাবে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।
বাক্স স্থাপনের দিন জাকির হোসেন বলেছিলেন, “এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার একটি মাধ্যম হবে। যেকোনো উপজেলার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এই মাধ্যমে জানানো যাবে।”
আজ দুপুর দুইটার দিকে বাক্সটি খুলে দেখা যায়, সেখানে চারটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে দুটি সরাসরি বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে, একটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লালন একাডেমির অনিয়ম সংক্রান্ত এবং আরেকটি একটি হত্যা মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ।
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে জমা পড়া একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়ার বড়বাজার এলাকার একটি ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন কয়েকজন বিএনপি নেতা নিয়মিত চাঁদা আদায় করছেন। অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে কারা কত টাকা নিচ্ছেন, তাও লেখা আছে। অন্য আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর একটি ক্লাব দখল করে নেয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের পরিচয়ে। ক্লাবটি এখন সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারছেন না।
জাকির হোসেন সরকার জানান, “চারটি অভিযোগ পেয়েছি, যেগুলোর মধ্যে দুটি সরাসরি আমাদের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। আমরা দুদিনের মধ্যে এগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জনগণ এখন অভিযোগ করতে শুরু করেছে—এটাই সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি নিয়মিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন