খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওমানফেরত বাহার উদ্দিনকে নিয়ে ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি মাইক্রোবাস। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে খালে পড়ে যাওয়া সেই গাড়িতে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের সাতজন। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন বাহার উদ্দিনসহ ছয়জন।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—প্রবাসীর স্ত্রী কবিতা আক্তার (২৪), মেয়ে মীম আক্তার (২), মা মুরশিদা বেগম (৫০), নানি ফয়জুন নেছা (৭০), ভাতিজি রেশমা আক্তার (৯), লামিয়া আক্তার (৮) ও বড় ভাইয়ের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৫)। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চৌপল্লী এলাকার কাশারি বাড়ির বাসিন্দা।
প্রবাসী বাহার উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রহমতখালী খালে পড়ে যায়।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা হলেন—প্রবাসী বাহার উদ্দিন, তার বাবা আবদুর রহিম, শ্বশুর ইসকান্দর মির্জা, শ্যালক রিয়াজ, ভাইয়ের স্ত্রী সুইটি ও চালক রাজু।
নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। একসঙ্গে সাতটি লাশ বাড়িতে আসায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গ্রামে।
বাহার উদ্দিনের বাবা আবদুর রহিম বলেন, “আমার ছেলে আড়াই বছর পর ওমান থেকে ফিরেছিল। আমরা সবাই মিলে তাকে আনতে ঢাকা যাই। ভোরে বেগমগঞ্জ পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খালে ফেলে দেয়। দরজাগুলো লক করা ছিল, জানালা দিয়ে আমরা ছয়জন বের হতে পারি, বাকিরা পারেনি। পানির স্রোত ছিল ভয়াবহ। ফলে গাড়িটি দ্রুত তলিয়ে যায়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা তারা পানির নিচে ছিল।”
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জানান, দুর্ঘটনার পর চালক পলাতক রয়েছে। তার ঘুমের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে, এবং মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন