খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
সাংবাদিক মো. ওমর ফারুকের একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার কথায় উঠে এসেছে, বর্তমানে কারো বিরুদ্ধে সামান্য সমালোচনামূলক পোস্ট করলেই পরদিন শারীরিক আক্রমণের শিকার হওয়ার ভয় থেকেই যাচ্ছে।
গভীর রাতে দেওয়া ওই পোস্টে ওমর ফারুক বলেন, “বর্তমানে যদি কারো বিরুদ্ধে ২ লাইন ফেসবুকেও লেখি তবে কাল আমাকে কুপিয়ে যে আহত করা হবে না, এর নিশ্চয়তা পাই না।”
তিনি শেখ হাসিনার শাসনামলের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে লিখেছেন, “শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতো ঠিকই, কিন্তু সাংবাদিকদের কণ্ঠ জবাই করে কখনোই বন্ধ করেনি। তিনি স্বৈরাচার ছিলেন, কিন্তু তার শাসনামলে রাত ৩টার সময়েও নাগরিকরা নিরাপদ বোধ করতো।’
ফারুক তার অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বরিশালের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে নিয়ে করা এক সমালোচনামূলক ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে। তিনি লিখেছেন, ‘সেই ভিডিও প্রচারের পরেও আমি বরিশালে বীর দর্পে হেঁটে চলে বেড়িয়েছি।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সমালোচনা করেও এতটা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেননি, যতটা এখন করছেন।
পোস্টের শেষদিকে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমি ভাবছি আর চিন্তা করছি সামনে নির্বাচন শেষে পরিস্থিতি কি উন্নতি হবে? নাকি আরো অবনতি হবে…”
ওমর ফারুকের এই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন, আবার অনেকে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তি নিরাপত্তা কতটা হুমকির মুখে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড