খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
প্যারিসের লেফট ব্যাংকের জনপ্রিয় সংবাদপত্র বিক্রেতা আলী আকবর—যিনি গত ৫০ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করে যাচ্ছেন—এবার পাচ্ছেন ফ্রান্সের অন্যতম সম্মাননা ‘অর্ডার অব মেরিট’। ফরাসি সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আগামী মাসে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁও ছাত্রজীবনে আলী আকবরের কাছ থেকেই পত্রিকা কিনতেন। ১৯৭২ সালে পাকিস্তান থেকে ফ্রান্সে আসেন আলী আকবর। ৬০ এর দশকে ইউরোপে এসে প্রথম আমস্টারডামে ক্রুজ লাইনারে কাজ করার পর, জাহাজ যখন ফ্রান্সের রুয়াঁ বন্দরে পৌঁছায়, তিনি সেখানে থেকে যান। এক বছর পর প্যারিস চলে আসেন এবং ৮০ এর দশকে ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান।
১৯৭৩ সাল থেকে প্যারিসের লেফট ব্যাংকে পত্রিকা বিক্রি শুরু করেন তিনি। শুরুতে তাঁর সঙ্গে ৩৫ থেকে ৪০ জন বিক্রেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি একাই এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আলী আকবর বলেন, ‘আগে সকালবেলাই ৭০-৮০ কপি পত্রিকা বিক্রি হয়ে যেত। এখন সারা দিনে গড়ে মাত্র ৩০ কপি বিক্রি হয়। আগে ক্রেতারা পত্রিকার জন্য ভিড় করত, এখন আমিই গ্রাহকের পেছনে দৌড়াই।’
তিনি আরও জানান, বিক্রিত পত্রিকার মূল্য থেকে তিনি অর্ধেক পান, কিন্তু অবিক্রীত পত্রিকার দাম ফেরত পান না। ডিজিটাল মিডিয়ার প্রসারে হার্ডকপির পঠনের সংখ্যা কমলেও, তিনি বলেন, ‘শুধু ভালো লাগে বলে আমি কাজটা করি। এই কাজ আমাকে আনন্দ দেয়। আমি পুরোপুরি স্বাধীন, কেউ আমাকে আদেশ দেয় না। আমি আমার মতো করে কাজ করি।’
৭২ বছর বয়সী আলী আকবর প্যারিসের সাঁ জাঁরমা এলাকায় পরিচিত মুখ। মাখোঁর মতো রাজনীতিবিদ, লেখক, পরিচালক ও অভিনেতারা তাঁকে চেনেন, তিনিও তাদের। একসময়কার সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের কেন্দ্র সাঁ জারমাঁয় লেখক, শিল্পী ও সেলিব্রিটি অনেকের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এলটন জন একবার ব্রাসেরি লিপ ক্যাফেতে তাঁকে দুধ-চা খাওয়ানোর কথা স্মরণ করেছেন।
তবে এখন সাঁ জাঁরমায় আগের মতো প্রাণ নেই—আলোকচিত্রী, সাহিত্যিক, শিল্পীদের আনাগোনা লঘুতর হয়েছে। আলী আকবরের ভাষায়, ‘এখন এটি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে গেছে।’
ফ্রান্সের শেষ সংবাদপত্রের হকার হিসেবে পঞ্চাশ বছরের কাজের স্বীকৃতিতে সম্মাননা পাওয়া আলী আকবরের গল্প তাই বিশেষভাবে অনুপ্রেরণাদায়ক।
খবরওয়ালা/এসআই