খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
জয়পুরহাটের কালাইয়ে দাম্পত্য ও সাংসারিক কলহের জেরে বটির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।
আহত ব্যক্তি হলেন মতিয়র রহমান, যিনি ওই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের টাকাহুত গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারের ছেলে। তাকে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
মতিয়র রহমান একটি বেসরকারি ব্যাংকের জুনিয়র অফিসার এবং তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেসা সুমি একই এলাকার বিনইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাইরুন্নেসা সুমি তাঁর স্বামী মতিয়রের চতুর্থ স্ত্রী। তিনি পূর্বে তিনবার বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন।
দাম্পত্য জীবনে নিয়মিত কলহ চলছিল। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি ও অর্থ নিয়ে বিরোধের কারণে সম্পর্ক আরও উত্তেজিত ছিল। মতিয়রের বাবা তার দুই বোনের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ করেন, এরপর থেকে সুমি বগুড়ায় একটি বাড়ি এবং সন্তানের নামে ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা জমা করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
ঘটনার দিন রবিবার মতিয়র কর্মস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর সুমি বটি নিয়ে তাঁর স্বামীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ দিলে মতিয়র মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সুমি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মতিয়রের বোন জান্নাতুন বলেন, “আমার ভাবি অত্যন্ত দাবিদার ও অশুভ চরিত্রের। তার আগে তিনজন স্বামী তাকে ছেড়ে গেছেন। আমার ভাই তার চতুর্থ স্বামী। আমার ভাইয়ের এই অবস্থায় বেঁচে থাকা মুশকিল। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করব।”
মতিয়রের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার বলেন, “আমি অসুস্থ, আমার নিরীহ ছেলের ওপর স্ত্রী এই ধরনের নির্যাতন করেছে, যা ভাবাই যায় না। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করব।”
অভিযোগ অস্বীকার করে স্ত্রী খাইরুন্নেসা সুমি মোবাইল ফোনে বলেন, “আমার স্বামী নষ্ট চরিত্রের লোক। সে তার কর্মস্থলে এক হিন্দু নারী কলিকের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রাখছে। আমি বিষয়টি জানালে সে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমি তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করব।”
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন জানান, “এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড