খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাবনার চাটমোহরে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন চাটমোহর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাকিল আহমেদ। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটার পর থেকে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গুনাইঘাছা ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকা ওই নারী মাসুরা খাতুনকে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এএসআই শাকিল। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে চাটমোহর থানায় কর্মরত। অন্যদিকে মাসুরা নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বাসিন্দা ও চাটমোহর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের প্রবাসী শহিদের স্ত্রী। শহিদ বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মাসুরা খাতুনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল চাটখিলে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে। সেই সংসারে তার একটি সন্তান থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে শহিদের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের পর মাসুরার বাবা শহিদকে সৌদি আরবে পাঠান। তবে শহিদের পরিবারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় মাসুরা দুই সন্তান নিয়ে চাটমোহর পৌর সদরের চৌধুরীপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।
অন্যদিকে শাকিল আহমেদের প্রথম স্ত্রী ও এক সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। পরে আরেক নারী পুলিশ কনস্টেবলের সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি, যার সংসারে তার দুই সন্তান রয়েছে।
প্রায় ছয় মাস আগে চাটমোহর থানায় বদলি হলে শাকিলের সঙ্গে মাসুরার পরিচয় হয়। এরপর থেকে তার বাসায় শাকিলের যাতায়াত বাড়ে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বিকেলে সকল বাধা উপেক্ষা করে মাসুরাকে নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরিবারের পক্ষ থেকে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় চাটমোহর পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, থানার ওপেন হাউজ ডে চলাকালীন কর্তব্যরত এক কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
সুধী সমাজের দাবি, ‘সমাজের এইরূপ অবক্ষয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তার সরাসরি জড়িত থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরাতে হীন মন-মানসিকতার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ শহিদের পরিবারও মাসুরার বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এএসআই শাকিলের পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। তবে শাকিল বাসায় আসেনি।
সিনিয়র এএসপি (সার্কেল চাটমোহর) আঞ্জুমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। এএসআই শাকিলের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/এসআই