এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫
বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বুদ্ধদেব গুহ। প্রকৃতি, বন-অরণ্য এবং মানুষের অন্তর্লোককে তাঁর লেখনীতে তিনি অমর শিল্পসৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
১৯৩৬ সালের ২৯ জুন বাংলাদেশের রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন গুহ। শৈশব ও কৈশোর থেকে তিনি প্রকৃতি ও অরণ্যের রহস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত ছিলেন, যা তাঁর সাহিত্যকে এক অনন্য গভীরতা প্রদান করেছে।
তাঁর জীবনসঙ্গী ছিলেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ঋতু গুহ। ভ্রমণের ক্ষেত্রে তিনি ইংল্যান্ড, ইউরোপ, কানাডা, আমেরিকা, জাপান, থাইল্যান্ড, পূর্বআফ্রিকা এবং হাওয়াই পর্যন্ত সফর করেছেন। তবে তাঁর সাহিত্যের প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল পূর্বভারতের বন-জঙ্গল, পশুপাখি ও অরণ্যের মানুষ। গুহের বিশ্বাস ছিল, “সাহিত্য-রচনায় মস্তিষ্কের তুলনায় হৃদয়ের ভূমিকা বড়।”
কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষে তিনি সাহিত্যের জগতে প্রবেশ করেন। প্রথম গ্রন্থ ‘জঙ্গলমহল’ প্রকাশের পরপরই তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় বহু উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থ। বিতর্কিত হলেও ‘মাধুকরী’ উপন্যাস তাঁকে বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান দিয়েছে।
ছোটদের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছিলেন জনপ্রিয় অভিযাত্রিক চরিত্র ‘ঋজুদা’। প্রথম প্রকাশিত বই ‘ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলে’ আজও কিশোর পাঠকের প্রিয়।
১৯৭৭ সালে গুহ অর্জন করেন আনন্দ পুরস্কার। সাহিত্যসৃজনের পাশাপাশি সংগীতেও তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের পাশাপাশি পুরাতনী টপ্পা গানের পারদর্শী শিল্পী।
টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে তাঁর একাধিক গল্প ও উপন্যাস রূপায়িত হয়েছে, যা তাঁকে আরও বিস্তৃত জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
২০২১ সালের ২৯ আগস্ট কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা সাহিত্য এক যুগপ্রবর্তক কথাসাহিত্যিককে হারালো।
তাঁর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
খবরওয়ালা/শরিফ