খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় উপাচার্য একেএম ফজলুল হক ভূঁইয়ার প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনাসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমতলায় সাংবাদিকদের সামনে দাবিগুলো তুলে ধরেন পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এএইচ এম হিমেল।
হিমেল বলেন, ‘বেলা ২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাহার, হলগুলোতে সব সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রক্টরিয়াল বডিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ ও হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও জানান, হামলার সঙ্গে জড়িত কৃষি অনুষদের শিক্ষক আসাদুজ্জামান সরকার, তোফাজ্জল, শরীফ, রাফি, বজলুর রহমান মোল্লা, মনির, আশিকুর রহমান ও কামরুজ্জামানসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অনতিবিলম্বে কম্বাইন্ড ডিগ্রি প্রদানের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
হিমেল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ছয় দফা দাবি গৃহীত না হলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় লকডাউন এবং ব্ল্যাক আউটে যাবে।’
এর আগে রোববার দিনভর প্রায় দুইশ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখাকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত দশজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা ওই নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করে সোমবার সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ‘কে আর’ মার্কেটে জড়ো হন। পরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শেষে ছয় দফা আল্টিমেটাম দেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, ‘নির্দেশনা অনেকে মেনে চলে গেছে; আবার অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে আন্দোলন করছে। হল খালি হলে সাধারণত দায়-দায়িত্ব লোকাল প্রশাসনের হাতে চলে যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গেও কথা বলছি; দেখি কি করা যায়।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছেলেদের নয়টি ও মেয়েদের পাঁচটি হল রয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার।
খবরওয়ালা/শরিফ