খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সরকারি চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং হাসপাতালের ভেতরে ওষুধ কোম্পানির অযাচিত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আট দফা নতুন নির্দেশনা দিয়েছে। চিকিৎসকদেরকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চলা ও রোগীদের জন্য নিরপেক্ষ চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জারি হয়। এতে বলা হয়েছে, সরকারি চিকিৎসকদের প্রতি জনআস্থা অটুট রাখা, সেবার মানোন্নয়ন ও হাসপাতালের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
মূল নির্দেশনায় বলা হয়েছে— কোনোভাবেই বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক বা ওষুধ কোম্পানির নামাঙ্কিত প্যাডে প্রেসক্রিপশন বা পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া যাবে না। সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান পরীক্ষা ও ওষুধ বাইরে থেকে করাতে বা কিনতে বলা যাবে না। সরকার অনুমোদিত বা সরবরাহকৃত সিল ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি সিল ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে বিজ্ঞাপনবিহীন জেনেরিক নামের সিল ব্যবহার করা যাবে।
এছাড়া ওষুধ কোম্পানির সরবরাহকৃত ওষুধের তালিকা হাসপাতালের টেবিলে রাখা যাবে না। কোনো কোম্পানির প্রতিনিধি রোগীর প্রেসক্রিপশন বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা ছবি তুলতে পারবেন না। সপ্তাহে নির্ধারিত দুই দিন—সোমবার ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ করার অনুমতি থাকবে। এ সময়ের বাইরে হাসপাতালে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সাক্ষাতের সময় কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত আইডি কার্ড দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি চিকিৎসকদের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং রোগীরা চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা ফিরে পাবেন। সম্প্রতি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ওষুধ কোম্পানির চাপের কারণে অনেক রোগী অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার শিকার হচ্ছিলেন—যা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি চিকিৎসকদের ওপর ওষুধ কোম্পানির প্রভাব কমাতে শুধু নির্দেশনা নয়, বরং এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই জরুরি। এজন্য হাসপাতালের ভেতরে নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং রোগীদের জন্য সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হবে, যাতে সরকারি সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট না হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন