খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 30শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলি তাণ্ডবে আরও একটি রক্তক্ষয়ী দিন দেখল গাজা। অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজার সবচেয়ে বড় নগরী গাজা সিটিতে রাতভর নৃশংস বর্বরতা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী—আইডিএফ। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) উপত্যকাজুড়ে অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে তারা। এ ছাড়া, শুধু শনিবার একদিনেই প্রায় ৬ হাজার ফিলিস্তিনি নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।
কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় শনিবার উপত্যকাজুড়ে ৬২ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৪৯ জনই গাজা সিটির বাসিন্দা। যদিও ইসরায়েলের দাবি তারা কোনো বেসামরিক নাগরিককে হামলার টার্গেট বানাচ্ছে না, তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে জাতিসংঘ পরিচালিত যেসব স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, মূলত সেগুলোকেই হামলার টার্গেট বানাচ্ছে ইসরায়েল।

সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘অবরোধ আর লাগাতার হামলার মধ্যে গাজা সিটির বাসিন্দারা এখন অমানবিক পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গাজা সিটিকে দখলের লক্ষ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে। প্রাণভয়ে মানুষকে পালিয়ে যেতে লিফলেট ফেলছে সেনারা।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর আবাসিক ভবন ও জনসেবামূলক স্থাপনায় বোমা ফেলা হচ্ছে, মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সময়ও পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘হামলার ধরন ও গতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইসরায়েলি সেনারা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আশ্রিত বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করছে।’ তিনি আরও জানান, বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ জড়ো হয়েছেন।
তবে হামলার পরও অনেকে গাজা সিটিতে থেকে যাচ্ছেন কিংবা দক্ষিণের শরণার্থী শিবিরে অমানবিক পরিস্থিতি দেখে ফেরত আসছেন। দক্ষিণে আল-মাওয়াসি ক্যাম্প ও দেইর আল-বালাহ এলাকা ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত ভিড়ে জর্জরিত এবং বারবার ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, ‘মানুষ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে সরে আসছেন, কিন্তু খুব কমসংখ্যকই দক্ষিণে পৌঁছাতে পারছেন। দক্ষিণেও জায়গা নেই, ফলে অনেকে আবার গাজা সিটিতেই ফিরে আসছেন।’
এখনও প্রায় ৯ লাখ মানুষ গাজা সিটিতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দাবি করেছে, গাজা সিটি থেকে ইতোমধ্যে আড়াই লাখের বেশি মানুষ পালিয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর