খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দশ বছর আগে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাবের বিশেষ অভিযানে ২৬টি দস্যু-বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। বহুদিন পর্যন্ত বনজীবীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু সম্প্রতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দস্যুরা। নদী ও খাল পাড়ি দিতে যাওয়া জেলেরা ফের দস্যুদের ভয়ে ভীত।
সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। একেকজন জেলের জন্য দাবি করা হয় লাখ লাখ টাকা। গরিব পরিবারগুলো ধারদেনা কিংবা জমি বিক্রি করে মুক্তিপণের টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হচ্ছে। কারও কারও পরিবারের জীবনে নেমে এসেছে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা।
স্থানীয়রা বলছেন, একসময় আত্মসমর্পণ করা দস্যুদের অনেকেই আবার নতুন করে চক্র গড়ে তুলছে। কেউ কেউ সরাসরি নেমেছে নদীপথে ডাকাতিতে, আবার কেউ মহাজনদের হয়ে অস্ত্র আর নৌকা সরবরাহ করছে। ফলে আগের মতোই সক্রিয় হয়ে উঠছে দস্যুবৃত্তি।
সুন্দরবনের লাখো মানুষ নদী ও খাল থেকে মাছ, কাঁকড়া, মধু আর গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। দস্যু আতঙ্কে এখন অনেকেই বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এতে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেকে বিকল্প পেশা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই দস্যুর কবলে পড়ার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বনে ঢুকছেন।
র্যাব ও কোস্টগার্ড বলছে, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় দস্যুদের তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন। তারা গা ঢাকা দিয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালায় এবং মুক্তিপণ আদায় করে আবার গভীর বনের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যায়। বন বিভাগের পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবও বড় বাধা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মহাজনদের সহায়তা ছাড়া দস্যুদের পক্ষে অস্ত্র, নৌকা ও অর্থ জোগাড় সম্ভব নয়। অনেক সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও পরোক্ষে দস্যুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। ফলে দস্যুবৃত্তি স্থায়ীভাবে নির্মূল করা যাচ্ছে না।
এক দশক আগে যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল, আজ সেখানে আবারও ভয় আর অনিশ্চয়তার পরিবেশ। বনজীবীরা বলছেন, দস্যুতা বন্ধে এককালীন অভিযান যথেষ্ট নয়। লাগাতার নজরদারি, মহাজনদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ না হলে সুন্দরবনের মানুষকে মুক্তিপণের ফাঁদ থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।
খবরওয়ালা/এন