খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফরিদপুর শহরের মাহিন্দ্রা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত জেলা যুবদলের সহসভাপতি মাসুদুর রহমান ও তাঁর সহযোগী আনন্দ শুভ্র রায়। এ ঘটনায় স্থানীয় মাহিন্দ্রা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, আবার হামলার শিকার হতে পারেন তাঁরা।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের গোয়ালচামট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন মাসুদুর রহমান। প্রায় একই সময়ে এ মামলার আরেক আসামি ও মাসুদুরের সহযোগী আনন্দ শুভ্র রায়কে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর চার ঘণ্টা পর ফরিদপুর এক নম্বর আমলি আদালত থেকে জামিন পান তাঁরা।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় মাহিন্দ্রাস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। পরে গতকাল সকালে ওই নেতা, আনন্দসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন জেলার মাহিন্দ্রামালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। এ ঘটনার পর মাসুদুর রহমানকে বুধবার সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফরিদপুর এক নম্বর আদালতে ওই দুই আসামিকে হাজির করা হলে তাঁরা আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে দুজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
মাসুদুর রহমানের আইনজীবী লুৎফর কবীর বৃহস্পতিবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার এজাহারে ওই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। ঢালাওভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় মাসুদুরসহ দুই আসামির তাৎক্ষণিক জামিন পাওয়ার ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা ও আবার হামলার শঙ্কায় ভীত বলে জানিয়েছেন মাহিন্দ্রামালিক ও শ্রমিকেরা।
মামলার বাদী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের ওপর আবার হামলা হতে পারে। গত রাত থেকে কানাঘুষা শুনে আসছি, ওরা বলে বেড়াচ্ছে, ‘খেলা শুরু হইলো, এর শেষ দেইখা ছাড়ব।’ আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।’
জেলা মাহিন্দ্রা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, কাজ করে খাই। পরবর্তী সময়ে হামলা বা হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করতে পারে। সে ভয় আমাদের মধ্যে কাজ করছে।’
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘মামলা লিখে দেন বাদী। তাঁর ভিত্তিতে আমরা মামলা নথিভুক্ত করি। বাদী যাঁর বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ দেন, এটা তাঁর নিজস্ব বিষয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করণীয় নেই।’
খবরওয়ালা/এসআর