খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দারিদ্র্য ঘুচিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনার আশায়, এক প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৩৫ বছর বয়সী রানা মিয়া। কিন্তু মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে তার কফিন ফিরে এলো নিজ দেশে। রানা মিয়ার অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও গোটা এলাকায়।
পারিবারিক সূত্রমতে জানা যায়, কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবার নিজেদের বসতভিটা বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, গোবিন্দগঞ্জ শাখা থেকে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন রানা মিয়া। তিনি স্থানীয় দালাল শিবপুর ইউনিয়নের সেলিম মিয়ার মাধ্যমে বিদেশে যান। তাকে একটি ভালো কোম্পানিতে চাকরির অঙ্গীকার করা হলেও সৌদি আরবে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, তাকে কাজের ভিসা নয়, বরং পর্যটন ভিসায় পাঠানো হয়েছে।
এরপর থেকে দালাল গোষ্ঠীর অধীনে তিনি নানা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে বাধ্য হন। তার প্রথম কয়েক মাসের বেতনের পুরোটাই ওই দালাল চক্র হাতিয়ে নেয়। এই প্রতারণার কথা দালাল সেলিমকে জানালেও তিনি কোনো প্রতিকার করেননি।
অবশেষে জীবনধারণের প্রয়োজনে তিনি পুনরায় ৬০ হাজার টাকা ধার করে সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ দিয়ে একটি মোটর সাইকেল কিনে খাদ্য সরবরাহ বা ফুড ডেলিভারির কাজ শুরু করেন। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজটি করতে গিয়েই গত ৯ সেপ্টেম্বর এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার করুণ মৃত্যু হয়।
অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর গত সোমবার রানা মিয়ার নিথর দেহ দেশে আনা হয়। দুপুরে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা নাগাদ অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো গ্রাম জুড়ে কান্নার রোল ওঠে।
রানা মিয়া রেখে গেলেন তার শোকার্ত স্ত্রী আরেফা বেগম ও দুই নাবালক সন্তানকে। বড় ছেলে আরাফাতের বয়স ১১, সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে, আর ছোট ছেলে রাফির বয়স মাত্র ৫ বছর। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ আরেফা বেগম অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, “ ভেবেছিলাম স্বামী টাকা উপার্জন করে ফিরবে, আমাদের অভাব দূর হবে। কিন্তু এই দালালের ছলনায় আমাদের সব শেষ হয়ে গেল।”
এলাকাবাসী প্রতারক দালাল সেলিম মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এই অসহায় পরিবারটির জন্য মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং দুই শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনুদান প্রত্যাশা করেছেন তারা।
খবরওয়ালা/টিএসএন