খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিকে নতুন করে রূপ দিতে পারে এমন এক ‘যুগান্তকারী’ অগ্রগতিতে, আগামী ৯ অক্টোবর ভারত সফরে যাচ্ছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। খবর এনডিটিভি।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এটি হবে কাবুল থেকে নয়াদিল্লিতে প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের সফর, যা ভারত-তালেবান সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে যে, মুত্তাকিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি ৯ থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে নয়াদিল্লি সফর করতে পারবেন।
অনেকে বলছেন, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় এই অব্যাহতিই তার ভারত সফরের তাৎপর্যকে তুলে ধরে।
জানা গেছে, ভারতীয় কূটনৈতিক মহল দীর্ঘদিন ধরেই এ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। চলতি বছরের শুরু থেকে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জে.পি. সিংহ একাধিকবার মুত্তাকি ও অন্যান্য তালেবান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যার বেশিরভাগই দুবাইয়ের মতো নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালীকরণ এবং শরণার্থী পুনর্বাসন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে ভারত।
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে, ভারত আফগানিস্তানে প্রায় ৫০ হাজার টন গম, ৩৩০ টনেরও বেশি ওষুধ ও টিকা এবং ৪০ হাজার লিটার কীটনাশকসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ সফর পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা। কাবুলে দীর্ঘদিন প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবান সরকারের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়েছে, বিশেষত আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর পর। ফলে ভারতকে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতের জন্য এ সফর ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তালেবান সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে তোলা ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, আঞ্চলিক সন্ত্রাসী হুমকি প্রতিরোধে সহায়তা করবে এবং পাকিস্তান ও চীনের প্রভাবকে ভারসাম্যপূর্ণ করবে।
সূত্র: এনডিটিভি
খবরওয়ালা/এসআর