খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
আজ, ৪ঠা অক্টোবর বিশ্ব প্রাণী দিবস (World Animal Day)। এই দিনটির মূল লক্ষ্য হলো প্রাণিজগৎের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের অধিকার, সুরক্ষা ও কল্যাণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা। প্রকৃতিতে মানুষের পাশাপাশি প্রতিটি প্রাণীর যে একটি অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা রয়েছে, সেই সত্যকেই এই দিনটি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করে। ‘প্রাণী বাঁচান, গ্রহ বাঁচান (সেভ এনিম্যালস, সেভ দ্য প্ল্যানেট)’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর বিশ্ব প্রাণী দিবসের ১০০তম বার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে।
১০০ বছর আগে, ১৯২৫ সালে, পোলিশ সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং অ্যাক্টিভিস্ট হেনরিখ জিমারম্যান প্রথমবার বিশ্ব প্রাণী দিবস উদ্যাপন করেন।
তিনি তখন জার্মানির বার্লিনে কাজ করতেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ বার্লিন স্পোর্টস প্যালেসে প্রথম দিবসটি পালিত হয়। পরে ১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এক সম্মেলনে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এই দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ আমাদের এই দেশে বন্যপ্রাণী ও গৃহপালিত উভয় ধরনের প্রাণীর সুরক্ষাই আজ এক বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং অবৈধ শিকারের ফলে অনেক প্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। বিশ্ব প্রাণী দিবস তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই প্রাণীগুলিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন এবং পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো আজ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে—যার মধ্যে রয়েছে প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতামূলক সেমিনার এবং পোষা প্রাণীর অধিকার নিয়ে আলোচনা।
আমাদের করণীয়:
পশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন: গৃহপালিত বা রাস্তার পশু—কারোর প্রতিই যেন নিষ্ঠুরতা না দেখানো হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ: প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার জন্য সচেতন হতে হবে।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল: প্রাণী অধিকার সংক্রান্ত সকল আইন মেনে চলতে হবে এবং আইন লঙ্ঘিত হলে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
এই বিশ্ব প্রাণী দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের গ্রহের প্রতিটি প্রাণী সুস্থ ও নিরাপদ থাকুক, এবং তারা আমাদের কাছ থেকে প্রাপ্য ভালোবাসা ও সম্মান পাক। প্রাণী এবং মানুষের সহাবস্থানই একটি সুন্দর ও সবুজ পৃথিবীর ভিত্তি।
খবরওয়ালা/এফএস