আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
মানুষের দীর্ঘ নামের গুরুত্ব বিশ্বের নানা সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়। অনেক সমাজে নামের দৈর্ঘ্যের মধ্য দিয়েই ঐতিহ্য, বংশগতি ও সামাজিক কাঠামোর পরিচয় পাওয়া যায়। দক্ষিণ ভারতে সাধারণত গ্রামের নাম, পিতার নাম এবং ব্যক্তিগত নাম একত্রে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে আরব বিশ্বে পারিবারিক বংশধারা ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে একজনের নামের সঙ্গে বাবা, দাদা এমনকি গোত্রের নামও যুক্ত করা হয়। পশ্চিমা দেশগুলোতেও এ ধরনের দীর্ঘ নামের ঐতিহ্য দেখা যায়।
যেমন স্প্যানিশ শিল্পী পাবলো দিয়েগো হোসে ফ্রান্সিসকো দে পাওলা হুয়ান নেপোমুসেনো মারিয়া দে লোস রেমেদিওস সিপ্রিয়ানো দে লা সান্তিসিমা ত্রিনিদাদ রুইজ ওয়াই পিকাসো—যার নাম বিখ্যাত হলেও, নিউজিল্যান্ডের লরেন্স ওয়াটকিন্সের নামের তুলনায় তা অনেক সংক্ষিপ্ত। লরেন্স ওয়াটকিন্স বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ নামের মালিক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্বীকৃত।
২,২৫৩ শব্দের নাম
১৯৯০ সালের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেওয়া লরেন্স নিজের নামের সঙ্গে দুই হাজারেরও বেশি মধ্যনাম যুক্ত করে আইনগতভাবে নাম পরিবর্তন করেন। তাঁর পূর্ণ নামটি এখন ২ হাজার ২৫৩টি আলাদা শব্দে গঠিত। এই নামের মাধ্যমেই তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম ব্যক্তিগত নামের গিনেস রেকর্ড অর্জন করেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লরেন্স জানান, তিনি সবসময় অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমধর্মী রেকর্ডের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি গিনেস বইটি নিয়মিত পড়তাম এবং ভাবতাম—কোনো রেকর্ড কি আছে যা আমি ভাঙতে পারি? তারপর মনে হলো, আগের রেকর্ডধারীর চেয়ে বেশি নাম যুক্ত করার কাজটিই আমার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময়।’
লরেন্সের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ ও জটিল। সে সময় প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো নামের তালিকা টাইপ করাতে তাঁকে কয়েক শ ডলার ব্যয় করতে হয়। প্রথমে জেলা আদালত তাঁর আবেদন অনুমোদন করলেও, রেজিস্ট্রার জেনারেল তা প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু লরেন্স হার মানেননি। তিনি হাইকোর্টে আপিল করেন এবং আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁর পক্ষেই রায় দেন।
এই ঘটনার পরই নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা দ্রুত দুটি আইন পরিবর্তন করেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এত বিপুল সংখ্যক মধ্যনাম যুক্ত করতে না পারে। প্রথমদিকে লরেন্সের নাম ২ হাজার ৩১০টি শব্দ হিসেবে নথিভুক্ত হলেও, গিনেসের হালনাগাদ সংস্করণে তা সংশোধন করে ২ হাজার ২৫৩টি নাম ধরা হয়।
গিনেস রেকর্ড অনুযায়ী, সে সময় লরেন্স শহরের একটি গ্রন্থাগারে কাজ করতেন। সেখানকার বই থেকে কিংবা সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়ে তিনি নামগুলো বাছাই করতেন। তাঁর প্রিয় নাম ছিল ‘AZ 2000’, যার মাধ্যমে বোঝায় যে তাঁর নাম A থেকে Z পর্যন্ত বিস্তৃত এবং মোট দুই হাজারটি নাম অন্তর্ভুক্ত।
তবে এত দীর্ঘ নামের কারণে তাঁকে মাঝে মাঝে বিপাকে পড়তে হয়। অনেকে তাঁর দাবিকে অবিশ্বাস করে, আবার সরকারি দপ্তরে পরিচয়পত্রে পুরো নাম বসানোও প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
খবরওয়ালা/টিএসএন