আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৫০ শতাংশ বাড়তি শুল্কের প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপে নতুন বাজার খুঁজছেন ভারতের টেক্সটাইল খাতের রপ্তানিকারকরা। ইউরোপে নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি বিদ্যমান মার্কিন ক্রেতাদের ছাড় দিতেও শুরু করেছেন তারা। মঙ্গলবার ভারতের টেক্সটাইল শিল্পখাতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের যেকোনও বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে এই শুল্ক সবচেয়ে বেশি। এর ফলে পোশাক ও গয়না থেকে শুরু করে চিংড়ি পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মুম্বাইয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পোশাক রপ্তানিকারক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বহুমুখী রপ্তানির ওপর জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্যচুক্তি হলে ভারতের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে কাজ করছে উভয়পক্ষ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত দুই পক্ষের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার, যা গত এক দশকে প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতীয় টেক্সটাইল রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর রাসায়নিক মানদণ্ড, পণ্যের লেবেলিং ও নৈতিক উৎস নিশ্চিতকরণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক মালিকদের সংগঠন ক্লোদিং ম্যানুফেকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা রাহুল মেহতা বলেছেন, রপ্তানিকারকরা এসব মানদণ্ড পূরণের লক্ষ্যে উৎপাদন স্থাপনার আধুনিকায়ন করছেন।
তিনি আরও জানান, রপ্তানিকারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতেও আগ্রহী। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র ছিল ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার। এই খাতে ভারতের মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ গেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
মুম্বাইভিত্তিক ক্রিয়েটিভ গ্রুপের চেয়ারম্যান বিজয় কুমার আগারওয়াল বলেন, কিছু রপ্তানিকারক ইতোমধ্যে মার্কিন ক্রেতাদের ধরে রাখার জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের মোট রপ্তানির ৮৯ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়।
বিজয় কুমার আরও সতর্ক করে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক কার্যকর থাকে, তাহলে আমার কোম্পানির ১৫ হাজার কর্মীর মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার জনকে ছাঁটাই করতে হবে। তিনি আরও জানান, ছয় মাস পর উৎপাদন কারখানা ওমান কিংবা প্রতিবেশী বাংলাদেশে স্থানান্তরের কথাও বিবেচনা করছি।
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/শরিফ